লোকমান ফারুক, রংপুর
রংপুরের মিঠাপুকুরের ময়েনপুরে শোনা যায়, এনামুল হকের হাতে বিয়ে হয়েছে ছয় শতাধিক। সংখ্যা কেউ নিশ্চিত করে না, কিন্তু কেউ অস্বীকারও করে না।
এই বিয়েগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নারী, সন্তান, সম্পত্তি, উত্তরাধিকার—একটি পুরো সামাজিক কাঠামো। যদি কাজী ভুয়া হন, এই কাঠামো কোথায় দাঁড়াবে?
এই প্রশ্ন নিয়েই ফোন করা হয় হাফিজ মো. আব্দুল কাদিরকে। এনামুল হক বৈধ কি না—এই সরল প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা আমি জানবো কেমন করে? দেখবেন জেলা রেজিস্টার।” কিন্তু প্রশ্ন ঘুরিয়ে দেওয়া হলে আপনার স্বাক্ষরে কীভাবে তিনি রেজিস্টার পেলেন কণ্ঠ হঠাৎ থেমে যায়। “আমি কিছুই বলবো না। আমার জবাবদিহিতা রেজিস্টারের কাছে।”
এই নীরবতা ব্যক্তিগত নয়। এটি একটি ভাষা। এই ভাষাতেই কথা বলেন জেলা রেজিস্টার অফিসও। বর্তমান জেলা রেজিস্টার মোছাঃ সামীমা পারভীন বলেন, “তিনি নতুন এসেছেন।
ঘটনা শুনেছেন, কাজীদের পক্ষ থেকে আবারও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ গেছে। নির্দেশ পেলেই ব্যবস্থা নেবেন।’ কিন্তু ২০১৭ সালের নির্দেশ? তিনি বলেন,” তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন।
রাষ্ট্র এখানে দায়কে সময়ের ওপরে ঠেলে দেয়। কিন্তু আইন সময় চেনে না। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কেউ সরাসরি বলেনি এনামুল হক বৈধ। আবার কেউই বলেননি তিনি অবৈধ। এই মাঝামাঝি অবস্থানই তাকে রক্ষা করেছে। এতে লাভবান হয়েছে যারা ভুয়া কাজী একা নন!
তার পেছনে আছে রেজিস্টার সরবরাহ, সমিতির সহায়তা, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা তারা সংখ্যায় বেশি, কণ্ঠে দুর্বল।
গল্প শেষ হয় আবার কদমতলী বাজারে। পান দোকানদার এখনো বলেন, এনামুল ভালো কাজী।
জেলা রেজিস্টার এর কার্যালয় এখনো বলেনি, তিনি ভুয়া। এই ফাঁকটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।
তাই শেষ প্রশ্নটি পাঠকের দিকে— মন্ত্রণালয় জানে এনামুল হক, ভূয়া কাজী। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ হয় না কেন? তাহলে অপরাধী কে? ভুয়া কাজী, সহায়তাকারী সমিতি, নাকি নিরব জেলা রেজিস্টারের দপ্তর?
Sharing is caring!