১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

Manual3 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual7 Ad Code

মালয়েশিয়ার জোহর বাহরুতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। কনস্ট্রাকশন সাইটে কর্মী নিয়োগের কমিশন দেয়ার কথা বলে তাকে কুয়ালালামপুর থেকে জোহর বাহরুতে নেয়া হয়।
চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় ওই নারীর। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে জানান, তার স্বামী যেহেতু একই খাতে কাজ করেন, তাই তিনি কর্মী সংগ্রহ করে দিলে বড় অঙ্কের কমিশন পাবেন।

বিশ্বাস অর্জনের জন্য ওই নারীকে ফ্যাক্টরি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেয়া হয়।
গত ৭ ডিসেম্বর অভিযুক্তের কথায় আশ্বস্ত হয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী তাকে জোহর বাহরুগামী বাসে তুলে দেন। সেখানে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাকে একটি হোটেলে নিয়ে যায়।

পরদিন গাড়ি নষ্ট হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং তাকে কুয়ালালামপুরে ফিরতে বাধা দেয়া হয়। একপর্যায়ে বাসের বদলে বিমানে টিকিট কেটে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে আরও এক রাত হোটেলে থাকতে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তিনি পানি পান করতে চাইলে অভিযুক্তদের একজন তাকে জুস খেতে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই জুসের সঙ্গে চেতনা নাশক ওষুধ মেশানো ছিল। জুস পানের পর তিনি অচেতন হলে চারজন ব্যক্তি তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

Manual7 Ad Code

রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জ্ঞান ফিরলে তিনি দ্রুত স্বামীকে বিষয়টি জানান। স্বামী তাৎক্ষণিক মালয়েশিয়ান জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চান।

তবে পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্তরা ওই নারীর হীরার নাকফুল, স্বর্ণের পায়েল ও ব্রেসলেট লুট করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকিও দেয় বলে জানা গেছে।

Manual2 Ad Code

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলেও চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী নারী তার প্রতি হওয়া এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন, যেন আর কোনো বোনকে এভাবে প্রতারিত ও লাঞ্ছিত হতে না হয়।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Manual6 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code