১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

চাটমোহরে টেন্ডার দাখিল নিয়ে বিএনপি’র আক্রমণে জামায়াতের সেক্রেটারীসহ আহত-৫

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
চাটমোহরে টেন্ডার দাখিল নিয়ে বিএনপি’র আক্রমণে জামায়াতের সেক্রেটারীসহ আহত-৫

Manual2 Ad Code

চাটমোহরে টেন্ডার দাখিল নিয়ে বিএনপি’র আক্রমণে জামায়াতের সেক্রেটারীসহ আহত-৫

মোঃ ছাবেদুল সরকার পাবনাঃ হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করা নিয়ে পাবনার চাটমোহর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান হাবিব, পৌর সেক্রেটারি সাদ্দাম হোসেনসহ নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা এমন অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর বিকেলে পাবনা-৩ (চাটমোহর,ভাঙ্গুরা,ফরিদপুর) আসনের জামায়াতের এমপি মাওলানা আলী আছগার সাংবাদিক সম্মেলন করে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে একটার দিকে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ উপস্থিত থাকলেও বাঁশি বাজানো ছাড়া হামলাকারীদের প্রতিহত করতে দেখা যায়নি। এ সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ছিল উপজেলা পরিষদের ডাকা হাট বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল দাখিলের শেষদিন।

একইসাথে বিকেল তিনটায় দাখিলকৃত টেন্ডার বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী আওরঙ্গজেব ছাইকোলা হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করতে উপজেলায় যান। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রাখা বাক্সে তার টেন্ডার শিডিউলটি ফেলেন।
এ সময় আশপাশে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গিয়ে তার উপর হামলা করে। সেখানে থাকা আনসার সদস্য ও পুলিশ প্রথমে তাদের নিবৃত করে নিচে নামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এর কিছু সময় পর ইউএনও অফিস থেকে নিজের ব্যক্তিগত কাজ শেষে বের হচ্ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী হাবিবুর রহমান। তখন ‌’জামায়াতের সেক্রেটারী এখানে কেন’ বলেই তার উপর হামলা করে মারপিট শুরু করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেখানে উপস্থিত আনসার সদস্য ও পুলিশ শুধু বাঁশি বাঁজিয়েছে। হামলাকারীদের প্রতিহত করতে পারেনি। পরে বিএনপি’র এক নেতার সহায়তায় নিজেকে রক্ষা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী হাবিব।

ভুক্তভোগী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী হাবিবুর রহমান জানান, ‘আমি ইউএনও সাহেবের কাছে এসেছিলাম আমার এলাকার একটি সমস্যা সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী যে টেন্ডার দাখিল করেছে তার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। আমি জানতামও না। ইউএনও অফিসের কাজ শেষে রুম থেকে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সবাই আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।’ এ সময় আমি, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ সাদ্দাম হোসেন সহ ৪/৫ জন আহত হই।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় এমপি মহোদয় ও উপজেলা জামায়াতের আমিরকে জানিয়েছি। তাদের সাথে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

Manual1 Ad Code

অভিযুক্তদের একজন মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিখন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা কয়েকজন গিয়েছিলাম শিডিউল দাখিল করার শেষ সময় জানার জন্য। গিয়ে দেখি দলের ছেলেপেলেদের সাথে ঝামেলা। কার সাথে কি নিয়ে ঝামেলা তাও জানতাম না। পরে শুনেছি। হামলার সাথে আমি জড়িত নই।

Manual5 Ad Code

এ ব্যাপারে চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জিয়ারুল হক সিন্টু জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমি জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিব ভাইকে নিরাপদে নিয়ে আসি। ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ‌’ঘটনা একটা ঘটেছে। ফৌজদারী অপরাধ হয়েছে। আজকে টেন্ডার দাখিল ও খোলা নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। তারপরও কিভাবে ঘটনা ঘটলো সেটি আমি বলতে পারছি না। থানার ওসি ভালো বলতে পারবেন। তার সাথে কথা বলেন।’

Manual5 Ad Code

এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

অপরদিকে বিকেল চারটার দিকে চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের সারোড়া গ্রামে জামায়াতের সাবেক আমির আলহাজ্ব তোরাব আলী বিশ্বাসের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় এমপি মাওলানা আলী আছগার হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান।

এসময় উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ, সেক্রেটারি মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিবসহ চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া,ফরিদপুর উপজেলা জামায়াত ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Manual5 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code