৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

কাল চীনের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ, অবিশ্বাস্য কিছুর আশায় বাটলার

editor
প্রকাশিত মার্চ ২, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
কাল চীনের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ, অবিশ্বাস্য কিছুর আশায় বাটলার

Manual6 Ad Code

কাল চীনের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ, অবিশ্বাস্য কিছুর আশায় বাটলার

শেখ স্বপ্না শিমুঃ স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপ অভিযানে নামতে যাচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বিগ ম্যাচে চীনের বিপক্ষে খেলবে মেয়েরা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও, লড়াইয়ের প্রত্যয় অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের। আর কোচ পিটার বাটলারের কাছে এই আসর শেখার বড় মঞ্চ। শিষ্যদের কাছে সেরাটাই চান কোচ। তার আশা, মাঠে মেয়েরা তাদের সেরাটাই দেবে।

শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ার মঞ্চে অভিষেক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের। উইমেন্স এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কমব্যাংক স্টেডিয়ামে চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে রেকর্ড ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। তা ছাড়া বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে দলটির। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে রানার্সআপও হয়েছিল তারা।

Manual3 Ad Code

২০২৫ সালের জুলাইয়ে বাছাইয়ের বাধা উতরে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অস্ট্রেলিয়ায় বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়ালও সামনে আনলেন সেই বাছাইয়ের প্রসঙ্গ। ‘আগামীকাল বাংলাদেশ নারী দল চীনের বিপক্ষে মাঠে নামবে। অবশ্যই, ইতিহাস ইতোমধ্যেই আমরা রচনা করেছি এবং আশা করি আগামীকাল আরেকটি ইতিহাস আমরা সৃষ্টি করতে পারব। এই পর্যায়ে আমাদের নারী দল বা পুরুষ দল কেউই এর আগে এত উঁচু পর্যায়ে খেলতে পারেনি। চীন বিশ্বকাপেও খেলে। কিন্তু আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আগামীকাল তাদের সঙ্গে আমরা ভালো খেলা উপহার দেব। প্রথমে দলের প্রতি আমার বার্তা-আমি একজন সমর্থক। একজন সমর্থক হিসেবেই কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ছুটে এসেছি সিডনিতে। সিডনির বাংলাদেশি সমর্থকরাও কিন্তু মাঠে আসবে। আশা করি, মেয়েরা তাদের সেরাটা দেবে।’

Manual3 Ad Code

জাতীয় দলের প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলারের চাওয়াটাও একই। বাছাই পর্বে মিয়ানমারের বিপক্ষে ২-১ গোলের অভাবণীয় জয় থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজছেন বাটলার। ‘সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না, কেউই তখন আশা করেছিল যে আমরা মিয়ানমারকে হারাবো। কারণ তারা র‌্যাঙ্কিয়ে অনেক এগিয়ে ছিল, ৫৫তম মেয়েরা সেই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেছিল। সেটি ছিল কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রম এবং প্রস্তুতির ফসল। আমরা অনেককে অবাক করে দিয়েছিলাম এবং আজ আমরা এখানে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের গল্প বলতে পারছি। আমি গর্বিত যে আমি সেই যাত্রার অংশ হতে পেরেছি।’

‘বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে এটি সম্ভবত সবচেয়ে ঐতিহাসিক খেলা। মেয়েরা কোয়ালিফাই করার জন্য অসাধারণ পরিশ্রম করেছে। আমরা এখানে এসেছি এবং আশা করছি ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারব, কারণ এই পর্যায়ের ইভেন্টগুলোতেই আপনি আসলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।’

Manual6 Ad Code

চীন কতটা শক্তিশালী তা অবশ্য আফঈদা নিজেও জানেন। তবে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলার প্রত্যয় শোনা গেল অধিনায়কের কণ্ঠেও। তবে ফুটবলীয় বাস্তবতায় অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য কিছু হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন কোচ বাটলার।

‘চীন খুবই শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত দল। এটি অনেকটা ডেভিড এবং গোলাইয়াথের লড়াইয়ের মতো। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে, আমরা এখনও ওদের পর্যায়ে নেই। কিন্তু ফুটবল এক অদ্ভুত খেলা। তবে ফলাফল যাই হোক, আমরা আমাদের নিজস্ব কৌশলে খেলব। রক্ষণাত্মক হয়ে স্রেফ গোল ঠেকানোর মানসিকতা আমাদের নেই।’

গত ২ ডিসেম্বর আজারবাইজানের বিপক্ষে ম্যাচের পর আর খেলায় হয়নি বাংলাদেশের। এ নিয়ে বাটলার বলেন, ‘আপনি যখন ইংল্যান্ডের সাথে খেলবেন, তখন আপনি বিশ্বের শীর্ষ দুই বা শীর্ষ তিন দলের সাথে খেলছেন। চীন গতিময় ফুটবল খেলে, এরিয়াল ক্রসে প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি। ফুটবল রকেট-সাইন্স নয়; যদি আপনি না দৌড়ান বা কাজে না ফিরেন, তাহলে আপনাকে শাস্তি পেতে হবে। আপনি যদি তাদের খেলার জায়গা দেন, তবে চীন আপনাকে শাস্তি দেবে। আমরা খারাপ দিনে তাদের ধরতে পারি, ফুটবলে অদ্ভুত কিছু ঘটে। আমরা সততা এবং নিষ্ঠার সাথে আমাদের সেরাটা দেব।’

Manual6 Ad Code

বাটলার আরও বলেন, ‘আমরা ক্যাম্প গুলিস্তান থেকে ক্যাম্প অস্ট্রেলিয়ায় এলাম। আমি রাগ করি না; আমি একজন বাস্তববাদী। প্রস্তুতিই সবকিছু-যদি আপনি সঠিকভাবে প্রস্তুতি না নেন, তাহলে ফলাফল আশা করবেন না। বাংলাদেশের মানুষের কথা বলতে গেলে, তাদের সৎ প্রচেষ্টা আশা করা উচিত। আমরা একটি সৎ দল। খেলোয়াড়রা ছোট হতে পারে, কিন্তু তাদের হৃদয় বিশাল। তারা তাদের দেশের জন্য ভালো করতে চায়।’

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code