সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ ৬ বাংলাদেশি নিহত।
শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পথে সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে আভা যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজনসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন- রামগঞ্জ উপজেলার নলচারা বেপারী বাড়ির মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী ফারজানা ইয়াছমিন, মেয়ে মেহের আফরোজ, ফাইজা ও গাড়ি চালক বাবরসহ নিহত মিজানুর রহমানের বন্ধুর স্ত্রী।
এ ঘটনায় মিজানুরের দেড় বয়সী শিশু কন্যা সুবহা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে মা খুকি বেগম ও বাবা শহিদ উল্যাহ বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। একই অবস্থায় পরিবারের অন্যদের।
বড় ভাই স্থানীয় টিউরী বাজারের ব্যবসায়ী বাহারুল আলম জানান, ছোট ভাই মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে সৌদি আরবের আবহা শহরে হোটেল ব্যবসার সাথে জড়িত। চলতি মাসের ৩ ফেব্রুয়ারি তার ছোট ভাই মিজানুর রহমান তার স্ত্রী ফারজানা তার তিন কন্যাকে নিয়ে পবিত্র ওমরা হজ পালন করাতে সৌদি আরবে যান। সৌদি আরবের সময় রোববার রাত প্রায় ৯টার দিকে পবিত্র ওমরা হজ পালন শেষে স্বামীর কর্মস্থল আভায় ফেরার পথে তায়েফ নামক এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে পরিবারের চারজনসহ ৬ জন নিহত হন।
প্রায় ২০ বছর আগে সৌদি আরব পাঁড়িজমান মিজানুর রহমান। সেখানে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী জানান, বিষয়টি জানতে পেরেছি। মরদেহ দেশে আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলে সার্বিক সহযোগিতা করব। এ ঘটনায় রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাশিদ বিন এনাম জানান, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Sharing is caring!