১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

জেনেভায় হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনা:

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
জেনেভায় হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনা:

Manual8 Ad Code

জেনেভায় হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনা:

শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। যুদ্ধ এড়ানো ও একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এ আলোচনা হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। খবর এক্সিওস।
মার্কিন প্রতিনিধি দলে থাকছেন ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

Manual6 Ad Code

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধান চান এবং ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে একই সঙ্গে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। পাঠানো হয়েছে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ‘চুক্তি হবে, না হলে আগের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

কারা থাকছেন আলোচনায়ঃ
মার্কিন প্রতিনিধি দলে থাকছেন ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি।

Manual2 Ad Code

মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, এর আগে উইটকফ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে কয়েকটি বার্তা পাঠান, যা ইরানকে জানানো হয়। পরে ওমান একটি নথি প্রস্তুত করে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানির কাছে হস্তান্তর করে। লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নথি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ট্রাম্পের শর্তঃ
ট্রাম্প বলেছেন, সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তিতে ইরানের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকতে হবে। তার অভিযোগ, ইরান আলোচনায় রাজি হলেও এখনও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ দেখায়নি।

Manual2 Ad Code

ইরানে শাসন পরিবর্তন চান কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা হলে হয়তো সবচেয়ে ভালো হতো।’ তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা একসঙ্গে চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চুক্তির টেবিলে আনতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, জেনেভার বৈঠক কতটা অগ্রগতি এনে দেয়।

প্রথম দফার আলোচনাঃ
কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবং সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি আলোচনায় বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জামাতা জারেড কুশনার। বৈঠকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেন।

Manual1 Ad Code

আলোচনার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, আলোচনাটি একটি ‘ভালো শুরু’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আরাঘচি জানান, বৈঠকে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একে অপরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ,’ বলেন তিনি।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি বলেন, তার দেশ আজ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘খুবই গুরুতর’ পরোক্ষ আলোচনার মধ্যস্থতা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই আলোচনা দুই দেশের চিন্তাভাবনা পরিষ্কার করতে সহায়ক হয়েছে এবং সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা গেছে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code