রফতানি: আশার আলো জাগাচ্ছে আলোচনার বাইরে থাকা বেশ কিছু পণ্য।
শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রফতানিতে ভাটা পড়লেও আশার আলো জাগিয়েছে আলোচনার বাইরে থাকা বেশ কিছু পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। প্রকৌশল, বাইসাইকেল, ওষুধ, জাহাজ, চামড়াজাত এবং কৃষিভিত্তিক নতুন পণ্যের রফতানি প্রবৃদ্ধি বাজার বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য নীতিগত সহায়তা আর বাজার সম্প্রসারণ অব্যাহতের তাগিদ দিচ্ছেন তারা। রফতানি: আশার আলো জাগাচ্ছে আলোচনার বাইরে থাকা বেশ কিছু পণ্য।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম।
মোট রফতানি কমলেও আশার আলো আলোচনার বাইরে থাকা বেশ কিছু খাতের পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী রফতানি প্রবণতা। অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক চমক এসেছে প্রকৌশল পণ্য থেকে। খাতটির রফতানি বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ, আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলার। যার মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কপার ওয়্যার ও যন্ত্রাংশ।
একই সঙ্গে বাইসাইকেল রফতানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতে আয় বেড়েছে ৩১ শতাংশ বেশি। রফতানি হয়েছে ৮ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি।
বেড়েছে ওষুধ রফতানিও। এই সময়ে খাতটি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধির দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশের বেশি।ইপিবির তথ্যমতে, জাহাজ রফতানি, চামড়াজাত পণ্য, জুট ইয়ার্ন ও জুট ব্যাগ, ক্র্যাব, চিংড়ি ও জীবন্ত মাছ, এমনকি গুড়া মশলা, ফলমূল ও শাকসবজির মতো খাতেও রফতানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের ৭ মাসে চীনে রফতানি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ, যা থেকে আয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৩ লাখ ডলার। এছাড়া পোল্যান্ডে রফতানি বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি।
নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রফতানি বৈচিত্র্য বাড়াতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন,
রফতানি আয় কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে যে, বাংলাদেশের রফতানি আয় একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের রফতানি আয় কয়েকটা নির্দিষ্ট বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে এবং রফতানি পণ্যে বৈচিত্র আনতে হবে।
ট্রেডিশনাল যেসব পণ্য আমরা রফতানি করি, সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আঞ্চলিকভাকে অনেক পণ্য উৎপাদন বা তৈরি করা হচ্ছে। সেগুলো রফতানির ব্যবস্থা করতে হবে। তৈরি পোশাক খাতে সাময়িক চাপ থাকলেও অপ্রচলিত ও নতুন পণ্যের রফতানিতে গতি এলে দেশের বৈদেশিক আয় কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
Sharing is caring!