২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

গাজা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বর্জনের ঘোষণা অরুন্ধতী রায়ের।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
গাজা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বর্জনের ঘোষণা অরুন্ধতী রায়ের।

Manual4 Ad Code

গাজা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বর্জনের ঘোষণা অরুন্ধতী রায়ের।

শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের খ্যাতনামা লেখক অরুন্ধতী রায়। গাজা যুদ্ধ নিয়ে উৎসবের জুরি সদস্যদের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় লেখক ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এ লেখা এক নিবন্ধে অরুন্ধতী রায় বলেছেন, জুরির কয়েকজন সদস্যের বক্তব্য ছিল ‘অগ্রহণযোগ্য’। বিশেষ করে জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান, জার্মান নির্মাতা উইম ওয়েন্ডার্স যখন বলেন, শিল্পকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকা উচিত—এ মন্তব্যে তিনি বিস্মিত হন।

Manual5 Ad Code

রায়ের ভাষায়, ‘শিল্পকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার কথা বলা মানে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আলোচনা বন্ধ করে দেয়া।’ গাজায় যা ঘটছে, তাকে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেন। কারণ এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সমর্থন ও অর্থায়ন দিচ্ছে।

Manual6 Ad Code

উৎসবের এক আলোচনায় জার্মান সরকারের গাজা ইস্যুতে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উইম ভেন্ডার্স বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়। তার মতে, শিল্পীরা রাজনীতিবিদদের কাজ করবেন না।

আরেক জুরি সদস্য পোলিশ প্রযোজক ইভা পুশ্চিন্সকা বলেন, বিভিন্ন দেশে অনেক যুদ্ধ চলছে, কিন্তু সব নিয়ে একইভাবে আলোচনা হয় না। তিনি মনে করেন, সরকারের সিদ্ধান্তের দায় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ওপর চাপানো ঠিক নয়।

Manual1 Ad Code

অরুন্ধতী রায়ের ১৯৮৯ সালের চলচ্চিত্র ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ানস’ উৎসবের ক্লাসিকস বিভাগে প্রদর্শিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি এই উৎসবে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

জার্মানি যুক্তরাষ্ট্রের পর ইসরাইলে অস্ত্র রফতানিকারক বড় দেশগুলোর একটি। গাজা ইস্যুতে ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ ঠেকাতে জার্মানিতে কঠোর অবস্থানের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালে ৫০০-র বেশি আন্তর্জাতিক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী জার্মান অর্থায়নে পরিচালিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code