২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

রেমিট্যান্সে স্বস্তি, রফতানিতে ভাটা, অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতির দ্বিমুখী চিত্র।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
রেমিট্যান্সে স্বস্তি, রফতানিতে ভাটা, অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতির দ্বিমুখী চিত্র।

Manual4 Ad Code

রেমিট্যান্সে স্বস্তি, রফতানিতে ভাটা, অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতির দ্বিমুখী চিত্র।

শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ বৈধপথে রেমিট্যান্স এনে রিজার্ভ বাড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার মুন্সিয়ানা দেখালেও ভাটা পড়েছে রফতানি আয়ে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে নিম্নগামী মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি আর ব্যাক টু ব্যাক এলসি। এই সরকারের আমলে শুধু বিদেশি বিনিয়োগই কমেনি, ঋণছাড় আর ঋণের প্রতিশ্রুতি দিতে নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় উন্নয়ন সহযোগীরা। এ অবস্থায় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতি বিশ্লেষক বলছেন, আগামী সরকারকে কমাতে হবে মূল্যস্ফীতি, বাড়াতে হবে আয়ের সুযোগ। রেমিট্যান্সে স্বস্তি, রফতানিতে ভাটা, অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতির দ্বিমুখী চিত্র।

Manual3 Ad Code

ডলারের জন্য ব্যবসায়ীদের এমন ক্ষোভ-হতাশা, মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণে বাফেদার বহুমুখী উদ্যোগ, মানি এক্সচেঞ্জ হাউসে হাহাকার- আমদানি ব্যয় কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর কড়াকড়ি- পড়তে থাকা রিজার্ভ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এমন নানা দৃশ্য দেখতে হয়েছে আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ শাসনামলের শেষ দিকে।

অবশ্য অর্থনীতির কালো বিড়াল ধরতে শ্বেতপত্র করা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বদলে গেছে সেই দৃশ্যপট। মুদ্রাবাজারে ডলার সংকট তো নেই-ই উল্টো অভার-ফ্লোর ঝুঁকি মোকাবিলায় বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কদিন পরপর ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমদানিকে প্রায় সংকটে ফেলা রিজার্ভ স্ফীত হতে হতে আবার ছাড়িয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলার। বৈধপথে রেকর্ড গড়ে প্রবাসী আয় দেশে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে ইউনূস সরকার।

Manual2 Ad Code

এরপরও গেল ৬ মাস ধরে কমতে থাকা রফতানি আয়ের পরিসংখ্যানকে সামনে এনে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছেন ভালো নেই তারা। ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে মূলধনী যন্ত্রপাতি, ব্যাক টু ব্যাক এলসি নিষ্পত্তিতে নেতিবাচক ধারাবাহিকতায় মিলছে না উপচে ডলার-রিজার্ভের স্বস্তি-স্তুতি।বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, ‘এ যে আমাদের রফতানিতে ধস নেমেছে, এ সময়ে আমরা কোনো ধরনের প্রণোদনা বা সহযোগিতা পাইনি।’

বিজিএমইএর পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, ‘আমরা জোর করে ভালো আছি। কিন্তু এ জোর করে ভালো থাকার সময়ও ফুরায়ে গেছে।বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইমানুল হক খান বলেন, ‘অনেকগুলো কারণ, এরমধ্যে এ সরকার খুব যে একটা ব্যবসা বান্ধব ছিল, তা তো না।’

বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তুলে ধরা এই সরকারের আমলেই বিডার আমন্ত্রণে দল বেধে বিদেশি বিনিয়োগকারী এসেছেন ঢাকায়। যদিও বিনিয়োগ কমার পরিসংখ্যান দিচ্ছে অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ। জানানো হচ্ছে, কমছে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থছাড়ও। ২০ বছরের মধ্যে বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমেছে সর্বনিম্নে। স্থবির বিনিয়োগে বাড়েনি কর্মসংস্থানের সুযোগ।

বিজিবিএর নির্বাচিত সভাপতি আবদুল হামিদ পিন্টু বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ থাকবে, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই আমাদের টিকে থাকতে হবে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘বিগত ১৮ মাসে আমরা সরকারকে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। কিন্তু ওনাদের মাঝে শুধু ব্যস্ততা দেখা গেছে।’

অপচয়-দুর্নীতির লাগাম টানতে সংকোচনমুখী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির রেকর্ডও হয়েছে গেল কয়েক মাসে। উন্নয়নকে টেকসই করতে নেয়া নানা সংস্কারের মধ্যেই গেল অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে নেমেছে ৩.৬৯ শতাংশে।
পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, ‘অর্থনীতির গতির ডিরেকশন পরিবর্তন করতে হবে। নাহয় আগামী দুবছরে মানুষ হতাশায় পড়ে যাবে।’

এমন বাস্তবতায় জন-সমর্থনে নির্বাচিত সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ; বিনিয়োগে বাণিজ্যিক প্রাণ সঞ্চার করে আয়ের পথ বাড়ানো, শিল্পমুখী অর্থনীতির কাঁচামালের যোগান দিতে কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে অতিকথনেও না কমা মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা, সামাজিক সুরক্ষা খাতের অপচয় রোধ করে বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেয়া।

Manual1 Ad Code

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মূল্যস্তর এখনও অনেক বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এটাকে সামাল দেয়াটা একটা বড় কাজ হবে। সরকারের শেষ সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়াতে নতুন পে-স্কেল করলেও তা বাস্তবায়নে বাড়তি ব্যয়ের যোগান দেয়ার দায়িত্ব চাপিয়েছে নির্বাচিত সরকারের কাঁধে।

Manual6 Ad Code

এই যে এতোক্ষণ যে সব তথ্য-উপাত্ত পড়লেন ও বিশ্লেষকদের মন্তব্য জানলেন, যা জনগণকে স্বস্তি দিবে বলে ধরা হচ্ছে, এই সব কিছু প্রত্যাশা মতো জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে আগামীতে ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দলকে অবশ্যই থামাতে হবে লাল ফিতাবন্দী আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য; হাঁটতে হবে অনলাইনের পথে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code