এপস্টেইন-যোগ নিয়ে বিতর্ক, ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রধানের পদত্যাগ
শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড–এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম পদত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডিত কুখ্যাত যৌন নিপীড়ত প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে নতুন নথি প্রকাশের পর চাপ বাড়তে থাকায় তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। খবর বিবিসির।দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড–এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম।
প্রতিষ্ঠানটি শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জানায়, তার পদত্যাগ ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে এসা কাজিম এবং প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে যুবরাজ নারায়ণকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকেও সুলতানের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সুলতানকে নিয়ে যা আছে নথিতেঃ
গত নভেম্বরে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের জন্য বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষ। চাপের মুখে ট্রাম্পও এসব নথি প্রকাশের আহ্বান জানান। এরপর ধাপে ধাপে এসব নথি প্রকাশ করা হচ্ছে। সবশেষ গত ৩০ জানুয়ারি ৩০ লাখেরও বেশি নথি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ।
এসব নথিতে উঠে এসেছে প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তির নাম। তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, টেসলার মালিক ইলন মাস্ক—এমনকি মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও। এদের অনেকের নাম আগে প্রকাশিত নথিতেও ছিল।
নতুন এসব নথিপত্র বিশ্বজুড়ে রীতিমতো হইচই ফেলেছে। চলছে তীব্র আলোচনা-বিতর্ক। প্রকাশিত এসব নথির মধ্যে বেশ কিছু নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে সুলতানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে।নথিতে দেখা যায়, এক দশকের বেশি সময় ধরে সুলতান ও এপস্টেইনের মধ্যে শত শত ইমেইল আদান-প্রদান হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকেই তাদের যোগাযোগ ছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সেখানে ভ্রমণ পরিকল্পনা, ব্যবসায়িক ধারণা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া এবং ব্যক্তিগত আলাপের বিষয় উঠে এসেছে। যার ফলে সুলতানের পাশাপাশি ডিপি ওয়ার্ল্ডও ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বিতর্কের জেরে বিনিয়োগ স্থগিতঃ
সমালোচনা ও বিতর্কের জেরে কয়েকটি বড় সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ডে নতুন বিনিয়োগ স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা এবং কানাডার বড় পেনশন তহবিল লা কাইস নতুন বিনিয়োগ আটকে দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া প্রিন্স অব ওয়েলসের আর্থশট প্রকল্প, যা ডিপি ওয়ার্ল্ডের অর্থায়ন পেয়েছিল, সেটিও যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশনে অভিযোগের মুখে পড়ে।
প্রভাবশালীদের সঙ্গে সুলতানের যোগাযোগঃ
নথিতে আরও দেখা যায়, এপস্টেইন ইমেইলের মাধ্যমে সুলতানকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এর মধ্যে ছিলেন সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং সাবেক ট্রাম্প উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন।
২০১৬ সালে লন্ডন গেটওয়ে বন্দরে প্রিন্স উইলিয়ামকে সফর করানোর কথাও এক ইমেইলে উল্লেখ ছিল। আরেকটি ইমেইলে যুক্তরাজ্যের সাবেক ব্যবসা সচিব লর্ড ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের বিষয় উঠে আসে। তবে এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
ব্যক্তিগত ইমেইল নিয়ে প্রশ্নঃ
কিছু ইমেইলে নারী ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক সংক্রান্ত কথাবার্তাও ছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এসব ইমেইলের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, এপস্টেইন ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার দায়ে দণ্ডিত হন। এর প্রায় ১১ বছর পর ২০১৯ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর কয়েক মাস পর কারাগারে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের ছয় মহাদেশে বন্দর পরিচালনা করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য অবকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পদে এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ব্যবসা মহলে বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Sharing is caring!