২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ভয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দুই বাংলাদেশির

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ভয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দুই বাংলাদেশির

Manual5 Ad Code

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ভয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দুই বাংলাদেশির

শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের অভিযানকালে গ্রেফতার এড়াতে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছেন দুই প্রবাসী বাংলাদেশি। ঝাঁপ দেয়ার পর সমুদ্রের স্রোতে ভেসে যান তারা। উত্তাল সমুদ্রে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ভেসে থাকার পর অবশেষে তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে তেরেঙ্গানু রাজ্যের লেম্বাহ বিডং এলাকার একটি নির্মাণ সাইটে অভিযান চালায় দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারা। অভিযানের খবর পেয়ে সেখানে কর্মরত দুই বাংলাদেশি পালানোর চেষ্টা করেন।

দুইজন সৈকত ধরে প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ানোর পরও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সামনে পড়েন। ধরা পড়ার ভয়ে তারা তৎক্ষণাৎ সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং সাঁতরিয়ে মাঝ সমুদ্রের দিকে চলে যান। এ সময় তারা একটি পরিত্যক্ত ককশিট খুঁজে পান। সেটাকে ভেলা হিসেবে ব্যবহার করে তারা উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে কোনোমতে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

Manual4 Ad Code

তাদের দ্রুত উদ্ধারে অভিযান শুরু করে সিভিল ডিফেন্স ফোর্স এবং স্থানীয় জেলেরা। ইমিগ্রেশন বিভাগ তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোন ব্যবহার করে। ড্রোনের ফুটেজে উপকূল থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের মাঝখানে তাদের ভেসে থাকতে দেখা যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করে উপকূলে ফিরিয়ে আনা হয়।

Manual3 Ad Code

তেরেঙ্গানু ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর মোহদ ইউসরি মোহদ নর জানান, ‘উদ্ধারের সময় তারা চরম ক্লান্ত ছিলেন। তাদের প্রাথমিক সেবা ও পানীয় সরবরাহ করা হয়েছে। তারা দুজনেই সুস্থ আছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

Manual6 Ad Code

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, একজনের কাছে কোনো ধরণের বৈধ নথিপত্র নেই এবং অন্যজন ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। আটক দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানানো হয়নি। শুধুমাত্র তাদের বয়স ৩০ বছর বলে জানানো হয়েছে।

অভিযানে তেরেঙ্গানু রাজ্যের লেম্বাহ বিডং এলাকায় মোট ৩১৬ জন বিদেশি নাগরিককে যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ২২২ জন, ইন্দোনেশীয় ৩ জন এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছে। তাদেরকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় আজিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code