৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রেফারির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল বার্সেলোনা।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ণ
রেফারির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল বার্সেলোনা।

Manual5 Ad Code

রেফারির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল বার্সেলোনা।

শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ কোপা দেল রে’র সেমিফাইনালের প্রথম লেগে। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় বার্সেলোনা। সেই ম্যাচে বার্সা ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল করে রেফারি। শুধু তাই নয়, সেই কুবার্সি ম্যাচের শেষ দিকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। শেষ পর্যন্ত রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে কাতালান ক্লাবটি।কুবার্সিকে লাল কার্ড দেখান ম্যাচ রেফারি।

Manual8 Ad Code

সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বড় ব্যবধানে হারের পর রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। এমনকি বার্সেলোনার সদ্য পদত্যাগ করা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাও কড়া বিবৃতি দেন। সেই প্রেক্ষিতে বার্সেলোনা স্পেনের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা র‌য়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র পাঠিয়েছে।

Manual1 Ad Code

বার্সেলোনা তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এফসি বার্সেলোনা জানাচ্ছে যে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ক্লাবটি স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির (সিটিএ) সভাপতি, ভিএআর বিভাগের প্রধান এবং লিগ্যাল অ্যাডভাইজরকে উদ্দেশ্য করে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে, চিঠিতে ক্লাবটি বারবার একই ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।’

বিবৃতিতে বার্সেলোনা পাঁচটি বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরে। শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তে অসঙ্গতি, হ্যান্ডবল সিদ্ধান্তে পরস্পরবিরোধী মানদণ্ড, গুরুত্বপূর্ণ ভুলের পুনরাবৃত্তি, ভিএআর ব্যবহারের প্রয়োগ ও স্বচ্ছতা ও মনিটর রিভিউয়ের মানদণ্ড।
বার্সা তাদের বিবৃতিতে আরও লিখে, ‘এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য রেফারিদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা নয়; বরং প্রয়োগ করা মানদণ্ড জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো, যাতে নিশ্চিত করা যায়—প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদা, রেফারিং সিদ্ধান্তে অভিন্নতা ও সব ক্লাবের জন্য সমান আচরণ।’

Manual4 Ad Code

এছাড়া, মাঠে রিভিউ হোক বা না হোক—ভিএআরের সব অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করার দাবি জানায় বার্সেলোনা, যা তারা স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।শেষে বার্সেলোনা জানায়, ‘ক্লাব আশা করে, তাদের দাবিগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।আগামী ৩ মার্চ ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় লেগ। তবে দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালের টিকিট কাটা বেশ কঠিন বার্সেলোনার জন্য।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code