৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচন কালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুত সেনাবাহিনী।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
নির্বাচন কালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুত সেনাবাহিনী।

Manual5 Ad Code

নির্বাচন কালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুত সেনাবাহিনী।

লোকমান ফারুক রংপুরঃ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক তাপমাত্রা যখন ধীরে ধীরে বাড়ছে, তখন যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার বার্তা দিলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির মধ্য দিয়েই সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হলো জনসাধারণের সামনে।

Manual8 Ad Code

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর ক্রিকেট গার্ডেন মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সেনাবাহিনীর একটি কৌশলগত মহড়া। মহড়া শেষে জানানো হয় নির্বাচনকালীন সময়ে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
মাঠের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দেখেন, হেলিকপ্টার থেকে একে একে নেমে আসছেন কমান্ডো গ্রুপের সদস্যরা। নেমেই তারা দ্রুত অবস্থান নেন নির্ধারিত স্থানে। পুরো দৃশ্যটি ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু পরিকল্পিত। কোথাও বাড়তি উত্তেজনা নেই, নেই অপ্রয়োজনীয় শব্দ।

Manual2 Ad Code

এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয় ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও রংপুর এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানের নির্দেশনায়। সেনা সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এই প্রস্তুতিমূলক মহড়া পরিচালনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এই ধরনের মহড়ার উদ্দেশ্য জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি নয়, বরং একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।

নির্বাচনের সময় অতীতে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, সংঘর্ষ কিংবা অস্থিরতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই এবার আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, দৃশ্যমান প্রস্তুতি অনেক সময় অদৃশ্য চাপ কমাতে সাহায্য করে।
মাঠে উপস্থিত এক স্থানীয় বাসিন্দা নীরবে মহড়াটি দেখছিলেন। পরে তিনি শুধু বললেন, “ভোট যেন শান্তিতে হয় এটাই সবচেয়ে বড় কথা।”

Manual5 Ad Code

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনীর প্রস্তুতির খবর সামনে আসছে। রংপুরের এই মহড়া তারই একটি অংশ নির্বাচনকালীন বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেওয়া এক নীরব বার্তা।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code