৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ভোট কারচুরির কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ণ
ভোট কারচুরির কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Manual3 Ad Code

ভোট কারচুরির কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

লোকমান ফারুক, রংপুরঃ রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের হলরুমে দুপুরের আলো তখনো পুরোপুরি নরম হয়নি। সারি সারি চেয়ার, ইউনিফর্মে পুলিশ, প্রশাসনের নথিভর্তি টেবিল-সবকিছুর মাঝখানে সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় একটি বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। “এবার কোথাও কেন্দ্র দখল হলে, কেউ ছাড় পাবে না।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর কণ্ঠে উত্তেজনা ছিল না, ছিল না অতিরিক্ত আবেগও ছিল দায়িত্বের ভাষা। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসন দৃশ্যমান থাকবে এবং ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ থাকবে না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে একটি শব্দ নিরপেক্ষতা। তাঁর ভাষায়, “সবার সহযোগিতায় এবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। প্রশাসন ও সরকারি বাহিনী নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।”

Manual4 Ad Code

এই আশ্বাস শুধু শহরের কেন্দ্রের জন্য নয় উত্তরের সীমান্ত এলাকাগুলোর কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করেন তিনি। জানান, সেখানে থাকবে বাড়তি সতর্কতা।
সরকারের প্রস্তুতির তালিকাও তুলে ধরা হয়। সহিংসতা, অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’র কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের জন্য দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরা। ব্যবহৃত হবে ড্রোন ও সুরক্ষা অ্যাপ। এরপরও কেউ আইন ভাঙতে চাইলে “ছাড় দেওয়া হবে না।”

Manual5 Ad Code

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। স্বাগত বক্তব্য দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানসহ বিভাগের আট জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও ওসিরা।

হলরুমের ভেতরে বক্তব্যগুলো ছিল শৃঙ্খলিত, পরিমিত। বাইরে তখন সাধারণ মানুষের কৌতূহল নির্বাচন কি সত্যিই আগের মতোই থাকবে, নাকি কিছু বদলাবে? বডি ক্যামেরা আর ড্রোন কি মানুষের আস্থার অভাব পূরণ করতে পারবে?
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যায় নির্বাচনের স্বচ্ছতা কি শুধু প্রযুক্তি আর কঠোর ঘোষণায় নিশ্চিত হয়, নাকি তার আসল পরীক্ষা হয় প্রয়োগের মুহূর্তে?

Manual5 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code