১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি তরুণ নিহত, মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চায় পরিবার

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি তরুণ নিহত, মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চায় পরিবার

Manual1 Ad Code

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি তরুণ নিহত, মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চায় পরিবার

 

শেখ স্বপ্না শিমুঃ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনভিলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিফাত আমিন (২৩) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে জ্যাকসনভিলের লরেটো এলাকার পাইন একরস রোডে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

Manual6 Ad Code

স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ৪জ্যাক্স’ (News4JAX) সূত্রে জানা গেছে, সিফাত আমিন তার গাড়ি নিয়ে পাইন একরস রোড দিয়ে যাওয়ার সময় একটি মেটাল ব্যারিকেড ভেঙে সরাসরি কংক্রিটের দেয়ালে আঘাত হানে। রাস্তাটি আই-২৯৫ এর দক্ষিণ প্রান্তে শেষ হয়ে গিয়েছিল।

Manual7 Ad Code

পুলিশ কর্মকর্তা সার্জেন্ট রবার্ট হাঙ্গারফোর্ড জানিয়েছেন, অন্ধকার এবং বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ধাক্কার তীব্রতায় দেয়ালের ওপরের অংশ ধসে গাড়ির সামনের দিকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই সিফাতের মৃত্যু হয়।

Manual8 Ad Code

নিহত সিফাত আমিন ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার বাসিন্দা, তার গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর। তিনি পড়াশোনার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। ২৩ বছর বয়সি এই তরুণের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে। তার বড় ভাই-বোন এবং বন্ধুরা বর্তমানে জ্যাকসনভিলে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তারা জানিয়েছেন, সিফাত আমিন কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং পড়াশোনার পাশাপাশি উবার ও ‘পাপা জনস্’-এ এ কাজ করতো। ধারণা করা হচ্ছে, সে রাত ২টার উবারে রাইড দিতেই বের হয়েছিল এবং বের হয়েই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।

সিফাতের পরিবার বর্তমানে এক ভয়াবহ শোকের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। তাদের এখন একমাত্র আর্তি, সিফাতের মরদেহ যেন অন্তত শেষবারের মতো নিজ দেশে একবার দেখার সুযোগ হয়। মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যে সকল আইনি, প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ রয়েছে, তা সম্পন্ন করতে তারা সময়ক্ষেপণ এবং বড় ধরনের জটিলতার আশঙ্কা করছেন।

Manual2 Ad Code

​বিশেষ করে স্থানীয় প্রশাসন থেকে ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ, ফিউনারেল হোমের মাধ্যমে ‘এম্বামিং সার্টিফিকেট’ এবং ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দ্রুততম সময়ে ‘অনাপত্তিপত্র’ (NOC) সংগ্রহের জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে মরদেহ পরিবহনের জন্য আনুষঙ্গিক কার্গো ক্লিয়ারেন্স যেন কোনো রকম আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়, সেজন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

​পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একজন পরিশ্রমী ছাত্র হিসেবে সিফাত বিদেশের মাটিতে অসুস্থ শরীরেও জীবিকার তাগিদে লড়াই করেছেন। এখন তার শেষ বিদায়ে যেন বিলম্ব না ঘটে, এটাই এখন পরিবারের একমাত্র চাওয়া।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code