২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ণ
উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

Manual3 Ad Code

উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

 

শেখ স্বপ্না শিমুঃ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটকে সাধুবাদ জানায় এবং নতুন নীতিমালার আলোকে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় করার আশ্বাস দেয়।

Manual3 Ad Code

আলোচনায় উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বাংলাদেশের মানবসম্পদকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশীয় বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং একটি সুসংগঠিত বৃত্তি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং সামাজিক একীকরণ নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দাবি জানান তিনি।

Manual8 Ad Code

উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, সঠিক সামাজিক সম্পৃক্ততা ও সহায়তা পরিষেবা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মালয়েশীয় সমাজে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

Manual7 Ad Code

মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদির বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১১ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। উভয় পক্ষই এই শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য এবং দুই দেশের আর্থ-সামাজিক সংযোগে তাদের ইতিবাচক ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। মন্ত্রী মালয়েশিয়ার বৈচিত্র্যময় উচ্চশিক্ষা পরিমণ্ডল এবং বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আলোকপাত করে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের শেষাংশে উভয় পক্ষ পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম, দূরশিক্ষণ এবং শ্রম বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা উন্নয়নের পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যা মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের আগ্রহ দেখায় মালয়েশীয় পক্ষ।

Manual4 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code