৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন পূরণে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ণ
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন পূরণে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান

Manual8 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি

দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দানে সকালটা ছিল অন্য রকম। শীতের হালকা কুয়াশার ভেতর লাল-সবুজ পতাকা, পোস্টার আর মানুষের কণ্ঠে ভেসে আসছিল একটাই কথা—ভোট। ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে, ইতিহাসের ভার কাঁধে নিয়ে কথা বললেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

Manual2 Ad Code

তিনি যেন সময়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন-যাদের আর কথা বলার সুযোগ নেই, সেই জুলাই অভ্যুত্থানের ১৪’শ শহীদ আর ৩০ হাজার অঙ্গহানি হওয়া মানুষের পক্ষ থেকে।

তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন, সংস্কারমুখী রাষ্ট্র, বললেন তিনি। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্যই আসন্ন গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।

Manual8 Ad Code

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায়,’ভোটের গাড়ি: দেশের চাবি আপনার হাতে’। এই কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টার কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, কিন্তু উত্তেজনা নয়; ছিল স্মৃতি, কিন্তু হুমকি নয়।

Manual8 Ad Code

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বা গণভোট কোনো সাধারণ ভোট নয়। এটি নির্ধারণ করবে আগামী ৫০ বছরের রাষ্ট্রচরিত্র। এই ভোট ঠিক করবে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে কি না।

Manual1 Ad Code

গুম-খুন বন্ধ হবে কি না, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না। এই লক্ষ্যেই চারটি প্রশ্নের একটি প্যাকেজ সংস্কার প্রস্তাব জনগণের সামনে আনা হয়েছে। তার ভাষায়- ‘দেশের আমূল পরিবর্তন চাইলে, ‘হ্যাঁ’ ভোটই একমাত্র পথ।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান স্পষ্ট করে বলেন,
অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের সরকার নয়। কোনো বিশেষ দলের পক্ষে পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নই আসে না। সংখ্যালঘু, আদিবাসীসহ সব ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন‌। সে জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আশ্বাস ভরা কন্ঠে তিনি বলেন, রাষ্ট্র এবার ভোটারকে ভয় দেখাবে না, বরং নিরাপত্তা দেবে। যে ভোটের অভাবে রক্ত ঝরেছিল। কথার একপর্যায়ে তিনি ফিরে যান পেছনে মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ভোট দিতে না পারার কারণেই জুলাই অভ্যুত্থান ঘটেছে , বললেন উপদেষ্টা।
জাতিসংঘের হিসাব টেনে এনে তিনি স্মরণ করালেন- ১৪’শ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, হাজারো মানুষ দৃষ্টিশক্তি ও অঙ্গ হারিয়েছেন।
এই আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সে দায় এখন জীবিতদের। “গণভোটের রায় যাই আসুক,
জাতি হিসেবে সেই সরকারের পেছনে দাঁড়াতে হবে।

গোর-এ শহীদ ময়দানে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটা তাই শুধু ভোটের নয়। এটি স্মৃতির, দায়-এর, আর ভবিষ্যতের। শহীদদের রক্ত কি কেবল ইতিহাসের পাতায় থাকবে, নাকি রাষ্ট্রের কাঠামো বদলাবে? এই গণভোট কি শুধুই ব্যালট,
নাকি দীর্ঘদিনের নীরবতার পর জনগণের সত্যিকারের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন?

সকালবেলার সেই মাঠে, যেখানে শহীদদের নাম খোদাই করা, সেখানেই ঘুরে ফিরে আসে উপদেষ্টার কথার সারকথা। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে শুধু একটি মত নয়,
এটি একটি স্বপ্নের পক্ষে দাঁড়ানো।
এখন সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে। দেশের চাবিও।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code