২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

আলোচনার আগে রাশিয়া-ইউক্রেনের তীব্র হামলা পাল্টা হামলা।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ণ
আলোচনার আগে রাশিয়া-ইউক্রেনের তীব্র হামলা পাল্টা হামলা।

Manual6 Ad Code

আলোচনার আগে রাশিয়া-ইউক্রেনের তীব্র হামলা পাল্টা হামলা।

শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সম্ভাব্য আলোচনার আগে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের ওপর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় দুই দেশেই একাধিক বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে ব্যাপক। খবর আল জাজিরার।
আলোচনার আগে রাশিয়া-ইউক্রেনের তীব্র হামলা পাল্টা হামলা।

Manual3 Ad Code

রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের চারবছর পূর্তির ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এই বৈঠকটি শুরু হবে। চলবে আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত।

Manual7 Ad Code

এই আলোচনা এমন এক সময় হচ্ছে, যখন কয়েক দিনের মধ্যেই রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানের চার বছর পূর্ণ হবে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংঘাতে পরিণত হয়G

Manual2 Ad Code

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়লেও একই সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখার চেষ্টা চলছে। জেনেভার বৈঠক সেই প্রচেষ্টারই অংশ। তবে এই আলোচনায় যুদ্ধবিরতি বা বড় কোনো সমঝোতা হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

আল জাজিরা জানিয়েছে, বৈঠকের আগেই ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র হামলা ও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ৩৯৬টি ড্রোন এবং ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

Manual2 Ad Code

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর মধ্যে ৩৬৭টি ড্রোন এবং ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, হামলায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আবাসিক ভবন, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ওডেসা ও দেনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে।

অন্যদিকে জবাবে ইউক্রেনও রাতভর রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়। রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল ইলস্কি তেল শোধনাগার। এতে তেলজাত পণ্যের একটি সংরক্ষণ ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া রুশ-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের বিভিন্ন স্থানেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানে এক শিশু আহত হয়েছে। ক্রিমিয়ার রাজধানী সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজভোঝায়েভ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের দীর্ঘতম হামলাগুলোর একটি ছিল এটি। ওই সময় প্রায় দুই ডজন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়।

রাশিয়ার দাবি, তারা রাতভর মোট ১৫১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য আলোচনার প্রাক্কালে উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code