২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সৌদির ক্যালেন্ডারে বুধবার প্রথম রোজা: কী বলছেন জ্যোতির্বিদরা?

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ণ
সৌদির ক্যালেন্ডারে বুধবার প্রথম রোজা: কী বলছেন জ্যোতির্বিদরা?

Manual8 Ad Code

সৌদির ক্যালেন্ডারে বুধবার প্রথম রোজা: কী বলছেন জ্যোতির্বিদরা?

শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ সৌদি আরবের দাফতরিক হিজরি ক্যালেন্ডার ‘উম্ম আল-কুরা’ অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আজ (মঙ্গলবার) চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এ নিয়ে বরাবরের মতো এবারও সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণা ও বৈজ্ঞানিক হিসাবের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিতর্কটি সামনে এসেছে।
সৌদি আরব মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, আজ মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও খালি চোখে বা টেলিস্কোপে চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা নেই। তা সত্ত্বেও সৌদি আরব তাদের পূর্বনির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বুধবার থেকে রোজা শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত কয়েক বছর ধরেই সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদ দেখা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য দেয়ার অভিযোগ তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষ অনেক সময় চাঁদ দেখা না গেলেও তাদের দাফতরিক ক্যালেন্ডার বজায় রাখতে রমজান ও ঈদের ঘোষণা দিয়ে দেয়।

Manual8 Ad Code

২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময় এই বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছিল। তৎকালীন সময়ে কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, সেই রাতে আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কেউ চাঁদ দেখে থাকলে তিনি তার প্রমাণ বা ছবি দাবি করেছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট ছবি দেখাতে না পারলেও পরদিন ঈদ ঘোষণা করে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে মুসলিম স্কলার ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে সমালোচনা হয়।

Manual8 Ad Code

ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা বিশেষজ্ঞ ও ‘নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ জানান, সৌদি আরব প্রায়ই এমন দিনে চাঁদ দেখার দাবি করে যা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব।ইমাদ আহমেদের মতে, প্রতিবছর মাত্র দু-তিনজন ব্যক্তির দাবির ওপর ভিত্তি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতেও চাঁদের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

Manual8 Ad Code

যুক্তরাজ্যের মতো যেসব দেশে নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটি নেই, সেখানকার অনেক মুসলমান সৌদির ঘোষণা অনুসরণ করেন। তবে স্থানীয় স্কলাররা এখন সৌদির ওপর নির্ভর না করে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলোর চাঁদ দেখার সংবাদ অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছেন।

মুসলিম বিশ্ব চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করায় সাধারণত মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। সৌদি আরব আজ সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে জ্যোতির্বিদদের পূর্বাভাস সত্যি হলে, বুধবারের আগে চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

Manual6 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code