চরফ্যাশনে মাদক নিয়ে ছেলের সাথে দ্বন্দ্ব, প্রাণ গেল বাবার
শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ ভোলার চরফ্যাশনে আ. রহিম ভুট্টো (৪৫) নামের এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে মাদক নিয়ে ছেলের সাথে দ্বন্দ্বে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারি।
শনিবার (১৪ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই ইউনিয়নের কলেরহাট রাস্তারমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আব্দুর রহিম ভুট্টো উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট এলাকার আখতারুজ্জামান সোহেলের ছেলে।
নিহতের পরিবারের দাবি, আব্দুর রহিম ভুট্টোর ছেলে আমির হোসেনের সাথে মাদকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় আমজাদ, বেল্লাল ও সম্রাট নামের তিন যুবক তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কলেরহাট রাস্তার মাথায় দুর্বৃত্তরা আ. রহিম ভুট্টোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যার বিচার চেয়েছেন পরিবার।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফকরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভোবে জানা গেছে মাদকের টাকা নিয় বিরোধ। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং কারা এর সাথে জড়িত সেটি তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানায়, গত শুক্রবার সকালে স্থানীয় যুবক মো. আমজাদ হোসেন ও বেল্লাল নিহত ভুট্টোর ছেলে আমির হোসেনকে মাদক কিনতে চার হাজার টাকা দেন। আমির হোসেন মাদক না দিয়ে ওই টাকা আত্মসাত করেন। মাদকের টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। ওই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সম্রাট নামের স্থানীয় এক যুবক শুক্রবার বিকালে আমির হোসেনকে মুঠোফোনে ডেকে নেন। নির্জন স্থানে আটক রেখে আমজাদ ও বেল্লাল মিলে বেধম মারধর করে মুখের চোয়াল ভেঙে দেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। শনিবার চরফ্যাশন হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠান।
নিহত আ. রহিম ভুট্টোর চাচাতো ভাই মো. ফিরোজ জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর নিহত আব্দুর রহিম ভুট্টোর সাথে কলেরহাট বাজারে একসঙ্গে বসে চা খাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় মো. আমজাদ ও বেল্লাল ভুট্টোর কাছে তার ছেলে টাকা নিয়ে কেন দেয়নি সেটি জানাতে চান। ভুট্টো পাল্টা তার ছেলেকে কেন মারধর করেছে, সেটি জানতে চাইলে তাদের সাথে ভুট্টোর বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় বাজারের লোকজন যুবকদের শান্ত করে ফিরিয়ে দেন। পরে জরুরি প্রয়োজনে চরফ্যাশন এসে শুনতে পাই ভুট্টোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
Sharing is caring!