২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রফতানিতে বিপর্যয়, ক্ষতি শত কোটি টাকা!

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রফতানিতে বিপর্যয়, ক্ষতি শত কোটি টাকা!

Manual5 Ad Code

ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রফতানিতে বিপর্যয়, ক্ষতি শত কোটি টাকা!

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটে মারাত্মক বিপর্যয়ের কবলে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। তৈরি পোশাক খাতে স্থবিরতার পাশাপাশি পণ্য উঠা-নামা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে শিপিং লাইনগুলো। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌ বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রফতানিতে বিপর্যয়, ক্ষতি শত কোটি টাকা!

পণ্য উঠা-নামাসহ সব ধরনের কার্যক্রম বাদ দিয়ে মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জেটি-ইয়ার্ড এবং টার্মিনালে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। আর শ্রমিক-কর্মচারীদের এই কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা।

বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি। কাঁচামাল ইনহাউস না হলে ফ্লোরগুলো বন্ধ থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে কয়েকদিনই আমরা বন্ধ থাকার সম্ভাবনা দেখছি। নির্বাচন, রমজান, ২১শে ফেব্রুয়ারি-সব মিলিয়ে আমাদের ক্ষতি আরও বড় হচ্ছে। তাই চাইবো দ্রুত বন্দর সচল করা হোক।

২১টি বেসরকারি অফডক থেকে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজারের বেশি আমদানি এবং ৩ হাজার রফতানি মিলিয়ে সাড়ে ৬ হাজার কনটেইনার বন্দরে আনা-নেয়া করা হলেও ধর্মঘটের কারণে এখন তা মাত্র দেড় হাজারে নেমে এসেছে। এর ফলে বন্দরে যেমন কনটেইনারের জট সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি আমদানি ও রফতানি পণ্যের স্তূপ জমছে অফডকগুলোতেও।

Manual2 Ad Code

বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, আমরা আমদানি ও রফতানি কনটেইনারের মাত্র ৪০-৪৫ শতাংশই সরবরাহ করতে পারছি। বাকি কনটেইনারগুলো বেসরকারি অফডকগুলোতে জমে যাচ্ছে। এই জট সামাল দিতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।

এদিকে, ধর্মঘটের কারণে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জাহাজ থেকে আমদানি কনটেইনার নামানো কিংবা রফতানি কনটেইনার তুলে দেয়াও বাধার মুখে পড়েছে। ফলে অলস বসে থাকায় প্রতিটি জাহাজকে প্রতিদিন অন্তত ১৫ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হবে।

একইসঙ্গে অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি শিপিং লাইনগুলোর। এমএসসি শিপিংয়ের হেড অব অপারেশন আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, আমাদের জাহাজগুলো দুদিন ধরে বসে রয়েছে। প্রতিদিন বার্থ হায়ার, স্টিভার্টর চার্জ, ফুয়েল-সব মিলিয়ে বিশাল ক্ষতি হচ্ছে। বিদেশি অপারেটরদের কাছে বন্দর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।

তবে শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনের ফলে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে খুব সামান্যই প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে পণ্য উঠা-নামার পাশাপাশি ডেলিভারি কার্যক্রমে কোনো রকম বাধার সৃষ্টি না করতে আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে তারা। অবশ্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া বেশ কয়েকজনকে বন্দর কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে শাস্তিমূলক বদলি আদেশ দিয়েছে।

Manual2 Ad Code

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ফারুক বলেছেন, কনটেইনার কিপডাউন চলছে, আমাদের লোকবল সব জায়গায় কাজ করছে। বন্দর ব্যবহারকারী এবং যারা ডেলিভারি নেবে; বিশেষ করে সিএন্ডএফদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন তারা তাদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে। কেউ যেন গুজবে কান না দেয় এবং বাইরে থেকে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল রমজানকে সামনে রেখে বা ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এই পরিস্থিতি কাজে লাগাতে না পারে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

Manual8 Ad Code

৫৯ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ৩২ হাজার ১০০ টিইইউএস কনটেইনার এবং ৯৭টি পণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে। দেশের আমদানি-রফতানির ৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে হয়, তাই বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে দেশের অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

Manual6 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code