৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

প্রেমের টানে দেশে ফেরা প্রবাসীর করুণ পরিণতি

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৬:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রেমের টানে দেশে ফেরা প্রবাসীর করুণ পরিণতি

Manual5 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

ভালোবাসার টানে প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছিলেন আরমান। সেই ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল তার মৃত্যুর কারণ। হত্যার শিকার প্রেমিক-প্রেমিকা আরমান ও কাজল।

প্রায় চার বছর ধরে সৌদি আরবের মদিনায় নির্মাণকাজে টাইলস বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন ২৬ বছরের আরমান। ঘাম ঝরিয়ে উপার্জন করা টাকা পাঠাতেন বাড়িতে, স্বপ্ন দেখতেন গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন এক জীবনের।

কিন্তু গ্রামের পাশের বাড়ির মেয়ে কাজল সাইনির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তাকে আবার টেনে আনে দেশে। আর সেই ফিরে আসাই হয়ে যায় কাল।

ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদ জেলায় আরমান ও কাজলকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে গঙ্গা নদীর পাড়ে একসঙ্গে কবর দেয়া হয় তাদের। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, তারা ‘অনার কিলিং’য়ের শিকার হয়েছে। ভিন্ন ধর্মের প্রেম মেনে না নেয়ার ভয়ংকর পরিণতি।

Manual1 Ad Code

কিছু স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভুলভাবে বলা হয়েছিল যে, আরমান দুবাইতে কাজ করে। তবে তার চাচাতো ভাই ইরফান বৃহস্পতিবার ফোনে খালিজ টাইমসকে বলেন, আরমান মদিনায় কাজ করতেন। ইরফান বলেন, ‘সে একজন মিষ্টি স্বভাবের ছেলে ছিল যে নিজের কাজে মনোযোগ দিত। তার এমন মৃত্যুতে আমরা ভেঙে পড়েছি।’

Manual5 Ad Code

পুলিশ জানায়, মুসলিম যুবক আরমান ও হিন্দু তরুণী কাজলের প্রেম চলছিল প্রায় দুই বছর ধরে। আরমান প্রবাসে থাকলেও ফোনে যোগাযোগ ছিল নিয়মিত। চার বছর পর সম্প্রতি দেশে ফেরেন আরমান। দেশে ফেরার পর কাজলের সঙ্গে দেখা করতে শুরু করেন তিনি। এতে তীব্র আপত্তি ছিল কাজলের পরিবারের।

গত সপ্তাহে রোববার (১৮ জানুয়ারি) গভীর রাতে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, কাজলের বাড়িতেই ধরা পড়ে যায় দুজন। কাজলের ভাইয়েরাই আরমানকে ধরে রেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর নিজের বোন কাজলকেও নির্মমভাবে হত্যা করে তারা।

Manual5 Ad Code

হত্যার পর লাশ গুম করতে গাড়িতে করে দুজনের মরদেহ নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে এক গর্তে পুঁতে ফেলা হয়। কয়েকদিন ধরে আরমান নিখোঁজ থাকায় তার পরিবার পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিল। শেষ পর্যন্ত রহস্য ফাঁস হয়।

Manual3 Ad Code

পুলিশ কাজলের বাবা ও তিন ভাইকে গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কবর খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে দুজনের মরদেহ। পুলিশ আরও জানায়, কাজল স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনাটি সংবেদনশীল হওয়ায় এবং গ্রামে ভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত ভিডিও ধারণের মাধ্যমে চিকিৎসকদের একটি বোর্ড সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code