বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর আটগাঁও ইউনিয়নের লোহাগাঁও গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোজাম্মেল হক (বুধু) ও তার স্ত্রী বিউটি বেগমের পরিবার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক হৃদয়বিদারক প্রতিচ্ছবি। তাদের ৬ সন্তানের মধ্যে ৫ জন জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী।
অসহায় এই পরিবারটি সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ছোট ঘরে থাকে। ঘরের দেয়ালে ফাটল,কনকনে শীতে তারা দিন কাটাচ্ছে। শীতবস্ত্র বা একটি ভালো কম্বলও জোটেনি।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মোজাম্মেল হক পেশায় রাজমিস্ত্রি। নিয়মিত কাজ পান না দৈনিক আয় মাত্র ৩০০–৪০০ টাকা। এই সামান্য আয়ে সন্তানদের চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার বা পড়াশোনা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, বিউটি বেগম তার পাঁচ প্রতিবন্ধী সন্তানকে আলুর ভর্তা ও পেঁয়াজ দিয়ে ভাত খাওয়াচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে মাছ-মাংসের স্বাদও পায়নি তারা।
বিউটি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
ছেলেরা মাংস খেতে চায়। আমি মা হয়েও দিতে পারি না। শীতে একটা কম্বলও কেউ দেয়নি। ওদের জন্য আমার প্রতিটি দিন কষ্ট আর দুঃখে ভরা।
পরিবারের বড় পাঁচ ছেলে—বিপ্লব (২৮), রাসেল (২৫), রিয়াদ (২২), রাজু (১৮) ও ইশাদ (১৩)—সবাই জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী। একসময় তারা প্রতিবন্ধী স্কুলে যেতেও এখন আর যায় না। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনও বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার দুলাল হোসেন বলেন,পরিবারটি শুধু সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের আওতায়। উপজেলা সমাজসেবা থেকে এ মুহূর্তে অন্য কোনো বিশেষ সহায়তা নেই।
আটগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তুরিন তানভীর বিতু জানান,ঘরে ফাটল আছে—আমরা জানি। দ্রুত তাদের কম্বলসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি বাস্তব সহায়তা থেকে বঞ্চিত। আগের ইউএনও ছন্দা পাল দায়িত্বে থাকাকালে সীমিত সহায়তা পাওয়া যেত।মানবিক বিপর্যয়ের মুখে থাকা এই পরিবারটি এখন সামাজিক ও সরকারি সহায়তার অপেক্ষায়। সচেতনরা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই অসহায় পরিবারের দুঃখ আরও ১গভীর হবে।
Sharing is caring!