বিশেষ প্রতিনিধি
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা অবৈধ করাতকলের কারণে পাহাড়ি বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
অনুমোদন ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত এসব ছাতা আকৃতির করাতকল পাহাড়ের বনজ সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করছে।
সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, লংগদু উপজেলায় পরিচালিত কোনো করাতকলেরই পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ লাইসেন্স বা ছাড়পত্র নেই। তবুও করাতকল মালিকরা পাহাড়ের বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে গাছ ও ঝোপঝাড় কেটে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এর ফলে পাহাড়ি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে বন উজাড় চলতে থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে অক্সিজেন সংকটসহ ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে লংগদু করাতকল মালিক সমিতির সভাপতি রহমত উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, এলাকায় কোনো করাতকলেরই বৈধ লাইসেন্স বা অনুমতি নেই।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অবৈধ করাতকল মালিকরা বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে কাঠ সরবরাহ করছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট করছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক তদারকির অভাবে করাতকল মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও তারা জানান।
মোবাইল কোর্টে জরিমানা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই এসব করাতকল পুনরায় চালু হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রশাসনের আশ্বাস যদি দ্রুত বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এলাকাটি বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
বন বিভাগের উল্টাছড়ি রেঞ্জের এক কর্মকর্তা জানান, লাগাতার বন উজাড়ের ফলে এলাকায় অক্সিজেনের ঘাটতিসহ নানা পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বন বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি অবৈধ করাতকলগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকেও অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, বন ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জানা গেছে, লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ, বাইট্টাপাড়া, মালাদ্বীপ, মানিকপাড়া (বেইল ফাদারের দোকান), ইসলামাবাদ, সোনাই কালু মাঝির টিলা, কার্ল্যাছড়ি বটতলা, যাত্রামুড়া, ডাঙ্গা বাজার, রাধামন বাজার, বৈরাগী বাজার, মহাজনপাড়া মোড়সহ গুলশাখালী এলাকায় প্রায় ২০টি অবৈধ করাতকল রয়েছে। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় অবিলম্বে এসব অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশ সচেতন মহল।
Sharing is caring!