২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

গণভোটের ‘হ্যাঁ একটি প্রজন্মের প্রত্যাশা, না কি ক্ষমতার নতুন বয়ান?

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ণ
গণভোটের ‘হ্যাঁ একটি প্রজন্মের প্রত্যাশা, না কি ক্ষমতার নতুন বয়ান?

Manual6 Ad Code

গণভোটের ‘হ্যাঁ একটি প্রজন্মের প্রত্যাশা, না কি ক্ষমতার নতুন বয়ান?

লোকমান ফারুক রংপুরঃ  রংপুরের আবু সাঈদ চত্বর। বিকেলের আলো তখন ঢলে পড়ছে। মঞ্চের সামনে ভিড়, ব্যানার, স্লোগান সবকিছুর মধ্যেও একধরনের নীরব উত্তেজনা। কেউ শুনছে, কেউ বিশ্বাস করতে চাইছে। কেউ শুধু দাঁড়িয়ে আছে ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করছে। সেখানেই দাঁড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বললেন,”গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ের মাধ্যমে আগামী ১০০ বছরের রাজনীতি বিনির্মাণ হবে।”

বক্তব্যটি ছিল বড়। সময়টিও বড় দাবি বহন করছে। প্রশ্ন হলো এটি কি ইতিহাসের মোড় ঘোরানোর ঘোষণা, না কি আরেকটি রাজনৈতিক প্রত্যাশার বয়ান? ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদের আয়োজনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে এই গণজমায়েত। সাদিক কায়েম রংপুরকে দেখছেন প্রতিরোধের কেন্দ্র হিসেবে। তাঁর কণ্ঠে ছিল আবেগ নয়, বরং দৃঢ়তা।
“রংপুর থেকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করতে হবে,” বললেন তিনি। তারপর যোগ করেন একটি বাক্য, যা মুহূর্তেই মাঠের বাতাস ভারী করে তোলে “যে কফিনে আবু সাঈদের রক্ত ঝরেছে, সেই কফিন বিজয়ী হবে।
এই বাক্যে রাজনীতি নেই এমন দাবি করা কঠিন। আবার এটাও অস্বীকার করা যাবে না যে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে আবেগ, বঞ্চনা আর স্মৃতি বরাবরই শক্তিশালী উপাদান।

সাদিক কায়েম তাঁর বক্তব্যে উত্তরবঙ্গের নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের দুর্বলতার কথা বলেন। অভিযোগ করেন, দুর্নীতি, অযোগ্যতা এবং “ভারতের প্রেসক্রিপশনে চলার’ মাধ্যমে সম্ভাবনা নষ্ট করার। তাঁর মতে, “আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ‘ইনসাফের প্রতিনিধি’ মনোনীত হলেই এই অঞ্চল বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে।

Manual2 Ad Code

এখানেই প্রশ্ন উঠে আসে ইনসাফ কাকে বলা হচ্ছে? এবং সেই ইনসাফের সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করছে?
তিনি আরও বলেন,”একটি দল পরিকল্পিতভাবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। তার জবাব দেওয়া হবে গণরায়ের মাধ্যমে।
‘১২ ফেব্রুয়ারি আমরা দেখিয়ে দেবো,’ বললেন তিনি।
যারা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় আসতে চায়’, তাদের জন্য তাঁর ভাষায় রয়েছে “লাল কার্ড”।

মঞ্চে থাকা রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ইতিহাসের স্মৃতিকে আরও সামনে টেনে আনেন। তিনি বলেন,”যারা জুলাই বিপ্লব নিজের চোখে দেখেনি, যারা বিদেশে পালিয়ে ছিল তাদের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে না থাকাটাই স্বাভাবিক।” তিনি শহীদ আবু সাঈদ ও আলী রায়হানের মৃত্যুর কথা বলেন। বললেন, “যারা সেই দৃশ্য দেখেনি, তারা এখন গণজোয়ার দেখে অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছে। ভিড় তখন হাততালি দেয়। কেউ স্লোগান তোলে। কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।

Manual2 Ad Code

এই গণজমায়েত একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেয় একটি পক্ষ নিজেদেরকে ইতিহাসের ধারক হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু একই সঙ্গে আরেকটি বাস্তবতাও সামনে আসে। রাজনীতিতে স্মৃতি যখন হাতিয়ার হয়, তখন ভবিষ্যৎ কতটা স্বচ্ছ থাকে? গণভোটের ‘হ্যাঁ’ কি সত্যিই আগামী ১০০ বছরের রাজনীতির ভিত্তি রচনা করবে, নাকি এটি একটি সময়ের আবেগ, যা আরেক সময় নতুন প্রশ্নের মুখে পড়বে?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই ‘হ্যাঁ’ কি জনগণের নিরবচ্ছিন্ন সম্মতি, নাকি বিকল্প কণ্ঠগুলো ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছে?

Manual5 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code