২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

৬০০ কোটি টাকার ছায়া: নওগাঁর এনজিও কেলেঙ্কারির মূলহোতা গ্রেপ্তার

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২০, ২০২৫, ০২:২০ অপরাহ্ণ
৬০০ কোটি টাকার ছায়া: নওগাঁর এনজিও কেলেঙ্কারির মূলহোতা গ্রেপ্তার

Manual7 Ad Code

৬০০ কোটি টাকার ছায়া: নওগাঁর এনজিও কেলেঙ্কারির মূলহোতা গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক : নওগাঁ সদরের অফিসপাড়ার সেই বন্ধ ঘরটি এখনো থমথমে। দরজায় ঝুলে থাকা তালা যেন অগণিত হতদরিদ্র মানুষের জমা স্বপ্নের উপর চূড়ান্ত সিলমোহর। সেই স্বপ্নে আগুন ধরানো ব্যক্তি নাজিম উদ্দিন তনুকে বুধবার ঢাকার দক্ষিণখান থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির এলআইসি ইউনিট।

Manual8 Ad Code

‘বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন’—রাজু–৩৭০ নম্বর এনজিও। সঞ্চয় আর মাসিক ডিপিএসের নামে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো অস্বাভাবিক লভ্যাংশ: ১ লাখে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা।
প্রথম দিকে কিছু গ্রাহককে দেওয়া হয়েছিল। আর তাতেই গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে স্বপ্নের ঢেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী শুধু বলেন, “ভাই, টোপটা খুব হিসেব করে ফেলা হয়েছিল।”

নথি বলছে, বাদীর নিজের ২০ লাখসহ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা জমা ছিল রেজিস্টারে। কিন্তু সিআইডির তদন্তে প্রকৃত ক্ষতির অঙ্ক ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। গত বছরের আগস্টের পরই লেনদেনে অস্বচ্ছতা শুরু হয়। উত্তোলন বন্ধ, সাফাই বাড়ে—শেষে গ্রাহকদের ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।

Manual5 Ad Code

মামলা হয়। অভিযোগ ওঠে প্রতারণা, আত্মসাৎ। তারপরই তদন্তকারীরা খুঁজে পায় নাজিমের পালানোর পথ—বারবার ঠিকানা পাল্টে দক্ষিণখানের এক বাসায় লুকিয়ে থাকা। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ে ধরা পড়ে তার শেষ আশ্রয়।

নাজিমসহ ছয়জন গ্রেপ্তার। আরো অনেকে অজ্ঞাত। আত্মসাৎকৃত অর্থ, যেটি অসংখ্য পরিবারকে নিঃস্ব করেছে, তার সিংহভাগ এখনো অধরা।

Manual4 Ad Code

শেষ প্রশ্নটি তাই থেকে যায়—
দারিদ্র্যকে টোপ বানিয়ে কেউ কি সত্যিই ‘মাসে ২ হাজার’ লভ্যাংশ দিতে পারে?
যে প্রশ্নের উত্তরে আজ নওগাঁর গ্রামের মানুষরা শুধু নীরবতা ধরে রেখেছে, আর পুলিশের কাছে অপেক্ষা—অন্তত কিছু কি ফেরত পাওয়া যাবে?
২০ নভেম্বর ২০২৫

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code