১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১লা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সৌদির ক্যালেন্ডারে বুধবার প্রথম রোজা: কী বলছেন জ্যোতির্বিদরা?

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ণ
সৌদির ক্যালেন্ডারে বুধবার প্রথম রোজা: কী বলছেন জ্যোতির্বিদরা?

Manual1 Ad Code

সৌদির ক্যালেন্ডারে বুধবার প্রথম রোজা: কী বলছেন জ্যোতির্বিদরা?

শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ সৌদি আরবের দাফতরিক হিজরি ক্যালেন্ডার ‘উম্ম আল-কুরা’ অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আজ (মঙ্গলবার) চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এ নিয়ে বরাবরের মতো এবারও সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণা ও বৈজ্ঞানিক হিসাবের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিতর্কটি সামনে এসেছে।
সৌদি আরব মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, আজ মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও খালি চোখে বা টেলিস্কোপে চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা নেই। তা সত্ত্বেও সৌদি আরব তাদের পূর্বনির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বুধবার থেকে রোজা শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Manual5 Ad Code

গত কয়েক বছর ধরেই সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদ দেখা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য দেয়ার অভিযোগ তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষ অনেক সময় চাঁদ দেখা না গেলেও তাদের দাফতরিক ক্যালেন্ডার বজায় রাখতে রমজান ও ঈদের ঘোষণা দিয়ে দেয়।

Manual2 Ad Code

২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময় এই বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছিল। তৎকালীন সময়ে কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, সেই রাতে আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কেউ চাঁদ দেখে থাকলে তিনি তার প্রমাণ বা ছবি দাবি করেছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট ছবি দেখাতে না পারলেও পরদিন ঈদ ঘোষণা করে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে মুসলিম স্কলার ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে সমালোচনা হয়।

Manual6 Ad Code

ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা বিশেষজ্ঞ ও ‘নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ জানান, সৌদি আরব প্রায়ই এমন দিনে চাঁদ দেখার দাবি করে যা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব।ইমাদ আহমেদের মতে, প্রতিবছর মাত্র দু-তিনজন ব্যক্তির দাবির ওপর ভিত্তি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতেও চাঁদের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

যুক্তরাজ্যের মতো যেসব দেশে নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটি নেই, সেখানকার অনেক মুসলমান সৌদির ঘোষণা অনুসরণ করেন। তবে স্থানীয় স্কলাররা এখন সৌদির ওপর নির্ভর না করে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলোর চাঁদ দেখার সংবাদ অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছেন।

মুসলিম বিশ্ব চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করায় সাধারণত মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। সৌদি আরব আজ সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে জ্যোতির্বিদদের পূর্বাভাস সত্যি হলে, বুধবারের আগে চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

Manual2 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code