৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় গাইবান্ধা জেলা

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় গাইবান্ধা জেলা

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট, গাইবান্ধা

গাইবান্ধা পৌরসভার নুরুল হক মডার্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য, সম্পদ আত্মসাৎ, নারী কেলেঙ্কারি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা বর্হিভূত কর্মকাণ্ডের একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

Manual4 Ad Code

রংপুর অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দপ্তরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে গাইবান্ধার বেশ কয়েকজন স্বাক্ষরকারী স্থানীয় নাগরিকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম ২০১০ সালে যোগদানের আগে দাড়িয়াপুর আমান উল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। সে সময় নারী ঘটিত অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে তিনি নুরুল হক মডার্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে যোগ দেন — যা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা বর্হিভূত।

এছাড়াও বলা হয়, বিদ্যালয়ের জমি, দোকান ও মার্কেট থেকে আয়কৃত অর্থ তিনি নিজের পকেটে ভরছেন। বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের ছাদ ভেঙে রড ও নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে আত্মসাৎ করেছেন প্রায় কয়েক লাখ টাকা।

Manual7 Ad Code

অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, ২০১০ সাল থেকে অদ্যাবধি প্রায় ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় কোটি টাকা। সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা কাজী নিশাত পারভীন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে বহিরাগত সন্ত্রাসী দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জোরপূর্বক অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে—রবিউল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলেও, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে শাস্তি এড়িয়ে যান।

তিনি ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণে সহকারী শিক্ষিকা মোছা: মনিরা খাতুনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছেন, যা নীতিমালা লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ।

Manual3 Ad Code

বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে তার দায়িত্বহীনতার কারণে ছাত্রছাত্রীদের ফলাফল ভয়াবহভাবে নিম্নগামী হয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, বিদ্যালয়টি এখন অনিয়ম, প্রভাব ও আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, “শিক্ষাঙ্গন যেন দুর্নীতি ও অনৈতিকতার আখড়া না হয় — এজন্য প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

রংপুর আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের কপি তারা পেয়েছেন। শিগগিরই একটি তদন্ত টিম গঠন করে ঘটনাটি যাচাই করা হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গাইবান্ধার নুরুল হক মডার্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে গোটা শিক্ষা মহলে।

দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখন সকলের দৃষ্টি তদন্তকারী সংস্থার দিকে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code