২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আগামীর বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ” গাজা”

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২১, ২০২৫, ০৮:১৩ অপরাহ্ণ
আগামীর বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ” গাজা”

Manual5 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি

১৯৪১ সালে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ দিয়ে শুরু করে জন্মের পর থেকেই ১৯৪৬ সালে হিন্দুদের গণহারে হত্যা করে জামায়াত বাংলাদেশকে একটি জ-ঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিলো।১৯৭১ সালে ত্রিশ লক্ষ শহীদকে হত্যা করেও ওরা সফল হতে পারেনি। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে জঙ্গী বাদীদের মুখোশ পরিবর্তন হয়েছে।১৯৭২ সালে জাসদের লুঙ্গির তলে ঢুকে ওরা সমগ্র বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।

১৯৭৬ সালে খন্দকার মোশতাকের ডেমোক্রেটিক লীগের লুঙ্গির তলায় ঢুকে ১৯৭৭ সালে আবার জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নামে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭৯ সালে আমেরিকার কৃতদাস জিয়াউর রহমান ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের সহযোগিতায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা পাকিস্তানে জ-ঙ্গী প্রশিক্ষণ নিয়ে আমেরিকার হয়ে সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে যুদ্ধ করে। জামায়াতে ইসলাম আফগানিস্তান প্রায় পাঁচ লাখ মুসলমান হত্যা করে।

আশির দশকে জামায়াত নেতা গো আযমের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর জ-ঙ্গীরা বাংলাদেশের ভেতরে সংগঠিত হতে শুরু করে। হরকাতুল জিহাদ , জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম , আল কায়েদা , আইসিস , আইএস এমন অসংখ্য জ-ঙ্গী সংগঠন গড়ে তুলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাকিস্তান প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গীদের মাধ্যমে। বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য আশির দশক থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবির বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের মেধাবী ছাত্রদের হাত ও পায়ের রগকাটা শুরু করে।এরপর সমগ্র বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের জঙ্গীদের পরিচয় হয় ” রগকাটা শিবির।”

নব্বইয়ের দশকে ” রগকাটা শিবির” আপডেট হয়ে বোমাবাজ জঙ্গীতে পরিণত হয়।তার ঠিক দুই বছর আগেই আমেরিকা পাকিস্তানের মাটিতে ১৯৮৮ সালে আল কায়েদা ও ১৯৯০ সালে তালেবান গঠন করে।একই আমেরিকা জামায়াতে ইসলামীর জঙ্গীদের দিয়ে গড়ে তুলে হরকাতুল জিহাদ ও জেএমবি। এদের দিয়েই উদীচির জনসভা ও রমনার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা করিয়ে অর্ধশতাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা ও শত শত মানুষকে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু করে দেওয়া হয়।

Manual4 Ad Code

এই ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রশিক্ষিত জঙ্গীদের দিয়ে খাম্বা তারেকের হাওয়া ভবনে বসে ২০০৪ সালের ২১ শে আগষ্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা করা হয়। ২০০৫ সালের ১৭ ই আগষ্ট সারা বাংলাদেশের ৬৩ জেলায় ৫০০ এর অধিক স্থানে একসাথে বোমা হামলা করে অসংখ্য নিরীহ মানুষ হত্যা করা হয়।এই ইসলামী জঙ্গীরাই ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হোলি আর্টিজানের ভেতর ২৯ জন নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বাংলাদেশের জঙ্গীদের ফাদার হচ্ছে জমায়াতে ইসলাম। এদের মাদার হচ্ছে খালেদা ও খাম্বা তারেকের বিএনপি।

Manual4 Ad Code

বিএনপি ও জামায়াতের সহবাসে ২০২৪ সালে জন্ম নিয়েছে আরেক আপডেট জ-ঙ্গী বৈষম্য বিরোধী। বাংলাদেশ হয়ে গেছে জঙ্গীবাদের আঁতুড়ঘর। বাংলাদেশের বনানীতে বসে পাকিস্তানের লস্কর -ই -তৈয়বার জঙ্গীদের সাথে মিলে ১০ ই নভেম্বর ভারতের দিল্লীর লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ১৩ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়।এতে জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান উপস্থিত ছিলেন। ফিলিস্তিনের গাজায় বসে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ইরানের উস্কানিতে হামলা করার পর গাজা আজ এক ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইরানের উস্কানিতে সিরিয়ায় বসে যারা আইআরজিসির ব্যানারে ইসরায়েলে হামলা চালাতো সেই সিরিয়াও আজ এক ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই নয়। অপরদিকে সেই ইরানের অভ্যন্তরে বিমান হামলার জন্য আমেরিকাকে পথ করে দিয়েছিলো তারই প্রতিবেশী মুসলিম দেশ পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিফ মুনীর তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে বসে ” হাঁস ভোজন” করছিলেন।

পাকিস্তানের আইএসআই বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর জঙ্গীদের দিয়ে আমেরিকার প্রেসক্রিপশনে ২০১৬ সালে পাকিস্তানের নাগরিক আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনিকে দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমারে অস্থিতিশীলতা তৈরীর জন্য গড়ে তুলে ” আরসা” নামক জ-ঙ্গী সংগঠন।এই জঙ্গীদের সৃষ্টির মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের যুদ্ধের প্লট উদ্বোধন করেছে জামায়াতে ইসলাম।

Manual6 Ad Code

আমেরিকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে গৃহযুদ্ধ লাগানোর জন্য ২০২৪ সালের ৫ ই আগষ্ট একটি জ-ঙ্গীথ্যান করেছিল। এতে আমেরিকার ডিপ স্টেট জামায়াত শিবিরকে ” অপারেশন বিডি” প্রজেক্টের নামে পাঁচ বিলিয়ন ডলার অর্থ দেয়। ইউএসএইড এর ২৯ মিলিয়ন ডলারও ঢুকে বিএনপি জামায়াতের পকেটে ‌।এই একই জামায়াতে ইসলামীর জঙ্গীদের ব্যাবহার করে ভারতের অভ্যন্তরে বোমা হামলা করা হয়েছে।

যেভাবে গত চৌদ্দ মাসে পাকিস্তানের লস্কর -ই -তৈয়বা ও জঈশ- ঈ- মুহম্মদ এর জঙ্গীদের বাংলাদেশে আসা শুরু হয়েছে তাতে আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ পরিণত হতে পারে ফিলিস্তিনের গাজায়। এর জন্য আমেরিকা জামায়াতের জঙ্গিদের পাকিস্তানি আইএসআই এর মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। দক্ষিণ এশিয়াকে অস্থিতিশীল করার জন্য আজ থেকে ৮৪ বছর আগে মাওলানা মওদুদীকে দিয়ে ব্রিটিশরা প্রতিষ্ঠিত করেছিল জামায়াতে ইসলামী নামক জ-ঙ্গী সংগঠন। স্নায়ু যুদ্ধের সময় সোভিয়েত রাশিয়াকে মোকাবেলা করার জন্য ওহাবিজমকে কাজে লাগিয়েছিলো ব্রিটিশরা।

১৭০০ সালে ব্রিটিশরা কট্ররপন্থী জঙ্গীবাদী মাওলানা মাওলানা ওহাবকে দিয়ে উগ্রবাদী জঙ্গীবাদী ওহাবিজম প্রতিষ্ঠা করে মুসলমানদের মুসলমানদের মধ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের শুরু করে।এর প্রায় দুইশো বছর পর ব্রিটিশদের দেখানো পথ ধরে ১৯২৮ সালে জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা অ্যাবওয়ে দিয়ে মিশরের জ-ঙ্গী হাসান আল বান্নাকে দিয়ে ” মুসলিম ব্রাদারহুড” প্রতিষ্ঠা করে আরব বিশ্বকে টুকরো টুকরো করে দেয়।যার ফলশ্রুতিতে এসব জঙ্গীদের উপর ভর করে সমগ্র আরব বিশ্বের দখল নেয় ব্রিটিশরা।

মুসলমানরা এইভাবে জঙ্গীবাদের নামে মানুষকে জান্নাতের স্বপ্ন দেখিয়ে একে অপরের পটু মেরে স্লোগান দিচ্ছে ” মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই।” জামায়াতের সাদা শকুন খ্যাত জিন্দা অলী শফিক ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছেন।

Manual6 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code