রাঙ্গুনিয়া চন্দ্রঘোনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কর্মী রিদুয়নের ছুরির আঘাতে একজন আহত।
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : রাঙ্গুনিয়ার ১১ নং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নে প্রতিবেশী নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী ছাত্রলীগ কর্মীর ছুরির আঘাতে আহত প্রতিবেশী
আহম্মদ হোসেন (৮০) গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেল ৫ ঘটিকার সময় চন্দ্রঘোনা ৩ নং ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ১১নং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আহম্মদ হোসেন তালুকদার স্থানীয় হাজী হাফেজ ছমিউদ্দিন শাহ(রাঃ) মসজিদের পক্ষে আদালতে সাক্ষী দেওয়া কে কেন্দ্র করে এবং গতকাল আদালতের নির্দেশে এসিল্যান্ড অফিস থেকে মসজিদ পরিদর্শনে আসলে তিনি সেইখানেই অত্র এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সাথে উপস্থিত ছিলেন এবং পরিদর্শনে আসা ব্যক্তিবর্গকে তিনি মসজিদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। সেই সময় পার্শ্ববর্তী বাড়ির শাহ আলম প্রকাশ কাজল (৫৫) তালুকদারের ছেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মোহাম্মদ শাহ রিদুয়ান তালুকদার প্রকাশ রিদুয়ন (২১), মোহাম্মদ শাহরিয়াদ প্রকাশ রিয়াদ (২২), আহম্মদ হোসেন এর সাথে বাকবিতন্ডে জড়িয়ে পরে এবং গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে সেইখান থেকে সরে পড়েন অভিযুক্তরা।
পরে আহম্মদ হোসেন বিকেল ৫টার সময় বাড়িতে ফেরার পথে নিজ বাড়ির সামনে আসলে পার্শ্ববর্তী বাড়ির কাজল তালুকদারের ছেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মোহাম্মদ শাহ রিদুয়ান তালুকদার প্রকাশ রিদুয়ন (২১), মোহাম্মদ শাহরিয়াদ প্রকাশ রিয়াদ (২২) ও তাদের পিতা শাহ আলম কাজল মিলে আহম্মদ হোসেনের উপর গালিগালাজ ও হামলা করে মারধর শুরু করেন, এক পর্যায়ে শাহ আলম কাজলের ছেলে রিদুয়ান আহম্মদ হোসেন এর উপর ছুরির আঘাত করেন। আহম্মদ হোসেন এর চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়।
পরে আহম্মদ হোসেন কে স্থানীয়দের সহযোগিতার হাসপাতালের নিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা করেন, পরে আহম্মদ হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহ রিদুয়ান তালুকদার প্রকাশ রিদুয়ন (২১), মোহাম্মদ শাহরিয়াদ প্রকাশ রিয়াদ (২২), শাহ আলম প্রকাশ কাজলের বিরুদ্ধেই রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের কথা স্বীকার করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিফাতুল মাজদার নিল বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি এই বিষয়ে তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
অভিযোগ আছে, শাহ আলম প্রকাশ কাজলের ছেলে রিদুয়ান নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে, এর আগেও তার বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় খুনের মামলার পালাতক আসামী। এইছাড়াও সেই নেশা গ্রহণ করে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সাথেও জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রিদুয়ান ছাত্রলীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে এবং তার আশেপাশের এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসাসহ নানান অপকর্মের সাথে জড়িত। রিদুয়ান নিজস্ব সন্ত্রাসী দলের ভয় দেখিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং নানা রকম অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে। সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে কেউ প্রসাশনের কাছে মুখ খুলেন না।
ভুক্তভোগী আহম্মদ হোসেন বলেন, আমি হাজী ছমিউদ্দিন শাহ (রাঃ) জামে মসজিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার সাক্ষী দেওয়ার পর থেকে নানান ভাবে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা, আজ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সামনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে আমি বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা আমাকে মেরে ফেলার জন্য ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।
চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম বলেন, আমরা চন্দ্রঘোনা আদর্শ গ্রামের ছমিউদ্দিন শাহ জামে মসজিদের পরিদর্শনে আসা এসিল্যান্ড অফিসারের সাথে কথা বলছি ঐ সময় কথিত শাহ আলম কাজল ও তার ছেলেরা আহম্মদ হোসেন কে গালিগালাজ করতে থাকে কারণ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়াতে, ঐখানে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়ে আমরা চলে আসি, আমরা আসার পর শুনলাম আহম্মদ হোসেন এর উপর সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। আমরা তাদের উপযুক্ত বিচার দাবী করছি।
Sharing is caring!