শেষ হলো মিলানো-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক।
শেখ স্বপ্না শিমুঃ যুদ্ধ আর সংঘাত যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে, ঠিক তখনই ইতালির বরফ শোভিত পাহাড়ে মানবিক জয়গানের এক মহাকাব্য রচিত হলো। শেষ হলো মিলানো-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক। ১০ দিনের লড়াই শেষে বিদায়বেলায় জয়ী হলো শান্তি আর মানবিক সক্ষমতা।
পর্দা নামলো মিলানো-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক।
ইতালির হিমশীতল বাতাসে এখন বিষাদের সুর সঙ্গে প্রাপ্তির আনন্দ। কোর্টিনা কার্লিং স্টেডিয়ামে যখন ‘ইতালিয়ান সোভেনিয়ার’ থিমে সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হলো, তখন তা কেবল একটি গেমসের শেষ ছিল না; ছিল অদম্য প্রাণের উৎসব। ৫৫টি দেশ, ৬১১ জন অ্যাথলেট, সবাই যেন এক সুতোয় গাঁথা।
এবারের আসরটি মোটেও সহজ ছিল না। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র/ইজরায়েল যুদ্ধের ছায়া পড়েছিল খেলার মাঠেও। ইউক্রেন-রাশিয়াকে নিয়েও জলঘোলা হয়েছে বিস্তর। ২০২২ সালের পর এই প্রথম রাশিয়া ও বেলারুশকে প্যারা অলিম্পিকে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিবাদে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান বয়কট করেন ইউক্রেনীয় অ্যাথলেটরা। কামানের গর্জন আর ধ্বংসলীলার খবর শিরোনামের মাঝে মিলানো-কোর্টিনা দেখিয়ে দিল, পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেও বিশ্বকে চেনা যায়।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মেরুদণ্ডের সমস্যায় আক্রান্ত কিশোরী সোফিয়া তানসেলা। তার স্বপ্নের হাত ধরে দর্শকরা ভ্রমণ করেছেন এক মায়াবী পৃথিবীতে। যেখানে ক্রাচে ভর দিয়ে ডেরগিন টোকমাক কিংবা এক পা হারানো জিওর্জিয়া গ্রেকো প্রমাণ করেছেন, শরীরের সীমাবদ্ধতা মনের গতির কাছে কতটা তুচ্ছ। মাঠের লড়াইয়ে দাপট দেখিয়েছে চীন। ৪৪টি পদক নিয়ে তালিকার শীর্ষে তারা। তবে স্বাগতিক ইতালিও কম যায়নি, ১৬টি পদক নিয়ে ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়েছে তারা। প্রথমবারের মতো মেডেল জিতেছে ব্রাজিল ও লাটভিয়ার মতো দেশগুলো।
বিদায়ের সুর বাজতেই প্যারা অলিম্পিক পতাকা তুলে দেওয়া হলো পরবর্তী আয়োজক ফ্রান্সের হাতে। মিলানো আর কোর্টিনার আকাশ যখন আতশবাজিতে রাঙানো, তখন মিলানোর ‘আর্কো ডেলা পেস’-এ নিভে যায় শিখা। সেই সাথে শুরু হয় ফ্রেঞ্চ আল্পস ২০৩০-এর অপেক্ষা।
শিখা নিভেছে ঠিকই, কিন্তু রেখে গেছে মানবিক সংহতির এক অমর বার্তা।
Sharing is caring!