১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

মালয়েশিয়ায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে হারলেন বাংলাদেশি যুবক

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে হারলেন বাংলাদেশি যুবক

Manual5 Ad Code

মালয়েশিয়ায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে হারলেন বাংলাদেশি যুবক

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ মালয়েশিয়ায় অভিবাসন বিভাগের অভিযানে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়ার আইনি লড়াইয়ে চূড়ান্তভাবে হেরে গেছেন সালমান আহমদ চৌধুরী (৩২) নামে এক বাংলাদেশি যুবক।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশটির উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের দেয়া অর্থ বাজেয়াপ্তকরণের আদেশ বহাল রাখলে ওই বাংলাদেশির প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা) ফিরে পাওয়ার শেষ আশাও বিলীন হয়ে যায়।
বিচারপতি আজমি আরিফিনের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে এই রায় দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি হায়াতুল আকমাল আব্দুল আজিজ এবং মেওর হাশিমী আব্দুল হামিদ।

Manual1 Ad Code

রায়ে বিচারপতি হায়াতুল আকমাল উল্লেখ করেন, সেশন কোর্টের অর্থ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টের রিভিউ খারিজের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। সালমানের আইনজীবীরা জব্দকৃত অর্থের প্রকৃত উৎস বা মালিকানা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রমাণ পেশ করতে পারেননি। জব্দকৃত অর্থের সাথে সালমানের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন আদালত। বাজেয়াপ্তকরণের আদেশের এক বছরেরও বেশি সময় পর রিভিশন আবেদন করা হয়েছে, যা আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

Manual8 Ad Code

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে সালমানের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি বিদেশি পাসপোর্ট এবং একটি সেফটি ডিপোজিট বক্সে রাখা নগদ ৭ লাখ ২৩ হাজার রিঙ্গিত উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সালমানসহ আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছিল।

Manual1 Ad Code

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সালমান আহমদ চৌধুরী একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করার ভিসা পেলেও শর্ত লঙ্ঘন করে অন্যত্র কর্মরত ছিলেন। সেশন কোর্টে দোষ স্বীকার করায় তাকে ৪০০ রিঙ্গিত জরিমানা এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) নির্দেশ দেয়া হয়। সালমান সেই সময় রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল না করেই বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৬ মে সালমানের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি রিভিউ আবেদন করা হয়। কিন্তু ১৯ মে হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেন। সবশেষ ধাপে তিনি আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হলেও বৃহস্পতিবার আদালত তার আবেদনটি চূড়ান্তভাবে নাকচ করে দেন।

Manual4 Ad Code

আদালতে সালমানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আতিকা নাজিহাহ আজমি এবং নূর খায়রুন্নিসা সাবিরাহ আব্দুল মানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আরিফ আইজুদ্দিন মাসরম। এদিকে, সালমানকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়ার দায়ে তার সাবেক নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান ‘এজেন্সি পেকেরজান ইনসাইট অ্যালায়েন্স এসডিএন বিএইচডি’-কেও ১০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code