২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা রাশিয়ার

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা রাশিয়ার

Manual2 Ad Code

ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা রাশিয়ার

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কিয়েভ, খারকিভ ও জাপোরিঝিয়ায় চালানো এ হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। মাইনাস ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যেই লাখো মানুষ পড়েছে তীব্র দুর্ভোগে। ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে ৪৫০টি ড্রোন ও ৬০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে রাশিয়া।গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালায়নি রাশিয়া। দিনভর কোথাও বিদ্যুৎকেন্দ্র বা গ্রিডে হামলার খবর আসেনি বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

Manual5 Ad Code

জেলেনস্কির এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হয় হামলা। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাপমাত্রা কমার অপেক্ষায় ছিল মস্কো। এরপরই এ ধরনের বড় হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রাশিয়া ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
তীব্র শীতের রাতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় কেঁপে ওঠে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, খারকিভ, জাপোরিঝিয়াসহ বিভিন্ন শহর। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে ৪৫০টি ড্রোন ও ৬০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে রাশিয়া।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শুরু করে মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। যা চলতি বছরের অন্যতম ভয়াবহ হামলা। এ ঘটনায় হতাহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাইনাস ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যেই রাজধানীতে এক হাজারের বেশি ভবনে হিটিং ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, তাপমাত্রা নামার অপেক্ষা করেই জ্বালানি ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে রাশিয়া।

Manual8 Ad Code

আসন্ন রাশিয়া-ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এমন ভয়াবহ হামলার প্রেক্ষিতে কিয়েভের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করার শামিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেয়া এক সপ্তাহ হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতির চারদিনের মাথায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে মস্কো।

Manual7 Ad Code

জেলেনস্কি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করব। আশা করি, যা ঘটছে সে বিষয়ে আমাদের মিত্ররা নীরব থাকবেন না। আমাদের দেশের প্রতিরক্ষা এবং আমাদের জনগণের সুরক্ষায় অব্যাহত সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জেলেনস্কির এমন দাবি অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

Manual2 Ad Code

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি সাক্ষর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইউক্রেনে মিত্রবাহিনীর উপস্থিতি দেখা যাবে। জেলেনস্কিকে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, স্থলবাহিনী, আকাশে বিমান এবং সমুদ্রে নৌ সহায়তা তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন হবে। বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জে ন্যাটোর মনোযোগ বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা নাকচ করে রুটে বলেন, ইউক্রেন ন্যাটোর নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রয়েছে। রাশিয়ার এমন হামলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবাক হননি বলে মন্তব্য করেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code