২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মালয়েশিয়ায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে হারলেন বাংলাদেশি যুবক

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে হারলেন বাংলাদেশি যুবক

Manual5 Ad Code

মালয়েশিয়ায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে হারলেন বাংলাদেশি যুবক

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ মালয়েশিয়ায় অভিবাসন বিভাগের অভিযানে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়ার আইনি লড়াইয়ে চূড়ান্তভাবে হেরে গেছেন সালমান আহমদ চৌধুরী (৩২) নামে এক বাংলাদেশি যুবক।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশটির উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের দেয়া অর্থ বাজেয়াপ্তকরণের আদেশ বহাল রাখলে ওই বাংলাদেশির প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা) ফিরে পাওয়ার শেষ আশাও বিলীন হয়ে যায়।
বিচারপতি আজমি আরিফিনের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে এই রায় দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি হায়াতুল আকমাল আব্দুল আজিজ এবং মেওর হাশিমী আব্দুল হামিদ।

Manual5 Ad Code

রায়ে বিচারপতি হায়াতুল আকমাল উল্লেখ করেন, সেশন কোর্টের অর্থ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টের রিভিউ খারিজের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। সালমানের আইনজীবীরা জব্দকৃত অর্থের প্রকৃত উৎস বা মালিকানা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রমাণ পেশ করতে পারেননি। জব্দকৃত অর্থের সাথে সালমানের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন আদালত। বাজেয়াপ্তকরণের আদেশের এক বছরেরও বেশি সময় পর রিভিশন আবেদন করা হয়েছে, যা আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

Manual4 Ad Code

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে সালমানের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি বিদেশি পাসপোর্ট এবং একটি সেফটি ডিপোজিট বক্সে রাখা নগদ ৭ লাখ ২৩ হাজার রিঙ্গিত উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সালমানসহ আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছিল।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সালমান আহমদ চৌধুরী একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করার ভিসা পেলেও শর্ত লঙ্ঘন করে অন্যত্র কর্মরত ছিলেন। সেশন কোর্টে দোষ স্বীকার করায় তাকে ৪০০ রিঙ্গিত জরিমানা এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) নির্দেশ দেয়া হয়। সালমান সেই সময় রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল না করেই বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

Manual4 Ad Code

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৬ মে সালমানের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি রিভিউ আবেদন করা হয়। কিন্তু ১৯ মে হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেন। সবশেষ ধাপে তিনি আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হলেও বৃহস্পতিবার আদালত তার আবেদনটি চূড়ান্তভাবে নাকচ করে দেন।

আদালতে সালমানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আতিকা নাজিহাহ আজমি এবং নূর খায়রুন্নিসা সাবিরাহ আব্দুল মানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আরিফ আইজুদ্দিন মাসরম। এদিকে, সালমানকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়ার দায়ে তার সাবেক নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান ‘এজেন্সি পেকেরজান ইনসাইট অ্যালায়েন্স এসডিএন বিএইচডি’-কেও ১০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code