২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া তিন বাংলাদেশিকে উদ্ধার, তদন্তে মিললো রোমহর্ষক তথ্য।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া তিন বাংলাদেশিকে উদ্ধার, তদন্তে মিললো রোমহর্ষক তথ্য।

Manual8 Ad Code

মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া তিন বাংলাদেশিকে উদ্ধার, তদন্তে মিললো রোমহর্ষক তথ্য।

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু রাজ্যে মানবপাচারকারীদের কবল থেকে বাংলাদেশের তিন নাগরিককে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) হুলু তেরেঙ্গানু জেলার একটি নির্মাণাধীন এলাকায় বিশেষ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়।

হুলু তেরেঙ্গানু জেলা পুলিশ প্রধান সুপারিটেনডেন্ট শারুদিন আব্দুল ওয়াহাব জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তেরেঙ্গানু জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এই অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার তিন বাংলাদেশির বয়স ২৯ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে।

Manual2 Ad Code

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে কিছু রোমহর্ষক তথ্য, যেখানে বিনা বেতনে গত পাঁচ মাস ধরে ওই তিন প্রবাসীকে দিয়ে কাজ করানো হলেও তাদের কোনো বেতন দেয়া হয়নি। টাকা না থাকায় পেটের দায়ে তারা স্থানীয় তাসিক কেনিয়ার লেক থেকে মাছ ধরে এবং জঙ্গল থেকে কুড়িয়ে আনা ফলমূল ও লতাপাতা খেয়ে বেঁচে ছিলেন বলে জানা গেছে।

Manual2 Ad Code

অভিযুক্ত নিয়োগকর্তা তাদের পাসপোর্ট ও কাজের পারমিট জব্দ করে নিয়েছিলেন এবং তাদের জন্য কোনো উন্নত আবাসন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করেননি।
এই ঘটনায় ৪৬ বছর বয়সি এক মালয়েশীয় নিয়োগকর্তাকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি জোরপূর্বক এই বাংলাদেশিদের কাজে বাধ্য করেছিলেন।

Manual5 Ad Code

উদ্ধার ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তাদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা আদেশের আবেদন করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি ‘অ্যান্টি-ট্রাফিকিং ইন পারসনস অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্টস অ্যাক্ট’ ২০০৭-এর ধারা ৪৪ এবং ১২-এর অধীনে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মানবপাচারের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন এবং জনসাধারণের কাছে তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code