২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

এপস্টেইন ফাইল থেকে কেন সরিয়ে ফেলা হলো হাজারো নথি?

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
এপস্টেইন ফাইল থেকে কেন সরিয়ে ফেলা হলো হাজারো নথি?

Manual1 Ad Code

এপস্টেইন ফাইল থেকে কেন সরিয়ে ফেলা হলো হাজারো নথি?

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশের জেরে এপস্টেইন ফাইল থেকে কয়েক হাজার নথি সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি সম্প্রতি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ। এসব নথিতে রয়েছে শত শত ইমেইল, কয়েক হাজার ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য। যার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব।

এতে নথিতে থাকা অন্তত ১০০ জন ভুক্তভোগী বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এসব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। ভুক্তভোগীদের দু’জন আইনজীবী নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল বিচারকের কাছে ব্যক্তিগত নথি সরানোর জন্য আবেদন করেন। এরইমধ্যে বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নথি। যাচাই বাছাই শেষে আরও কিছু নথি সরানো হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

Manual6 Ad Code

ভুক্তভোগীর বরাতে বিবিসি জানায়, আইন বিভাগ তিনটি শর্তই লঙ্ঘন করেছে। যার মধ্যে রয়েছে অনেক নথি এখনও প্রকাশ না করা, প্রকাশের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়া এবং বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
কিছু ক্ষেত্রে নামের ওপর একটি রেখা দেয়া হলেও এটি পড়া যায়। এমন অনেক ভুক্তভোগীর ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যারা কখনো প্রকাশ্যে পরিচয় প্রকাশ করেননি।

Manual5 Ad Code

এদিকে, এপস্টেইন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেজাজ হারিয়ে ফেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সিএনএনের একজন রিপোর্টারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।ট্রাম্প ওই সাংবাদিককে বলেন তুমি সবচেয়ে বাজে রিপোর্টার। তোমাদের মতো লোকের কারণেই সিএনএনের কোনো রেটিং নেই। আমি তোমাকে দশ বছর ধরে চিনি। তোমার মুখে কোনোদিন হাসি দেখেছি বলে মনে পড়ে না।

Manual2 Ad Code

এসময় ক্লিনটন দম্পতির কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এটিকে দুঃখজনক বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। বলেন সত্যি বলতে এটা দুঃখজনক। আমি তাকে সবসময়ই পছন্দ করতাম। কিন্তু তারা আমার পেছনে এমনভাবে লেগেছিল, যেন আমাকে সারা জীবনের জন্য জেলে পাঠাতে চায়। শেষে দেখা গেল, আমি নির্দোষ।

Manual2 Ad Code

অন্যদিকে এপস্টেইন কাণ্ডে বিতর্কের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী রাজনীতিক লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন। জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে গোপন সরকারি তথ্য পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, ২০০৯ সালে ব্যবসা সচিব থাকাকালে এপস্টেইনের কাছে মার্কেট সংবেদনশীল তথ্য পাঠাতেন তিনি। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় বেইলআউটের আগাম তথ্যও পাঠিয়েছেন এপস্টেইনের কাছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত ইমেইলে উঠে আসে এসব তথ্য। এরইমধ্যে ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। তদন্তে পুলিশকে সব ধরনের সহায়তা করার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code