১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

খাদ্য নিরাপত্তায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কুয়েত, সরকার দেবে আমদানির অতিরিক্ত খরচ

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ণ
খাদ্য নিরাপত্তায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কুয়েত, সরকার দেবে আমদানির অতিরিক্ত খরচ

Manual1 Ad Code

খাদ্য নিরাপত্তায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কুয়েত, সরকার দেবে আমদানির অতিরিক্ত খরচ

শেখ স্বপ্না শিমুঃ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের মধ্যেও নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে উপসাগরীয় দেশ কুয়েত। বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে আমদানিকারকদের সহায়তা দেবে সরকার। এমন ঘোষনা দিয়েছে কুয়েত সরকার।

স্থানীয় বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।দেশটির বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ওসামা বুদাই এক মন্ত্রী পর্যায়ের সিদ্ধান্তে জানিয়েছেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত পরিবহন বা সরবরাহ ব্যয় হলে তা সরকার বহন করবে। এর উদ্দেশ্য হলো সরবরাহ পথ ব্যাহত হলেও বাজারে পণ্যের ঘাটতি বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি যেন না ঘটে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, সমুদ্র, স্থল বা আকাশপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে আমদানিকারকদের অনেক সময় বিকল্প ও তুলনামূলক ব্যয়বহুল পরিবহন ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে সেই অতিরিক্ত খরচ সরকার সহায়তা হিসেবে প্রদান করবে।

Manual3 Ad Code

এই সহায়তা মূলত নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর মধ্যে রয়েছে চাল, আটা, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, হিমায়িত আস্ত মুরগি, টমেটো পেস্ট, শিশুখাদ্য, গুঁড়ো দুধ, বোতলজাত পানি এবং টিনজাত পণ্য যেমন শিম, ছোলা, টুনা, ভুট্টা ও মটরশুঁটি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই তালিকায় আরও পণ্য যুক্ত করার ক্ষমতা মন্ত্রীর হাতে রয়েছে। তবে, সরকারি সহায়তা পেতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে।

Manual5 Ad Code

এর মধ্যে রয়েছে বৈধ বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের কারণে ব্যয় বৃদ্ধির যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রদান করা এবং দেখাতে হবে যে এই ব্যয় বৃদ্ধি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটেছে।
এছাড়া সহায়তা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মজুদ থাকা পর্যন্ত খুচরা বাজারে পণ্যের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এ জন্য কোম্পানিগুলোকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইলেকট্রনিক পোর্টালে আবেদন করতে হবে।

Manual5 Ad Code

চালানের তথ্য, ব্যয়ের তুলনামূলক হিসাব এবং সরবরাহ বিঘ্নের প্রমাণপত্র জমা দেয়ার পর একটি বিশেষ কমিটি তা যাচাই করবে।
পণ্য কুয়েতে পৌঁছানোর পর প্রকৃত ব্যয় যাচাই করে অর্থ পরিশোধ করবে কুয়েত সাপ্লাই কোম্পানি। কোনো অগ্রিম অর্থ প্রদান করা হবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া কঠোর নিরীক্ষা ও তদারকির আওতায় থাকবে। সরকার জানায়, আমদানিকারকদের নির্ধারিত মূল্য মেনে চলতে হবে এবং অনুমোদন ছাড়া ভর্তুকিপ্রাপ্ত পণ্য রপ্তানি করা যাবে না। মজুদ ও বিক্রির বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন দিতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে পরিদর্শন পরিচালনা করবে।

Manual6 Ad Code

কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সহায়তা বাতিল, অর্থ বাজেয়াপ্ত এবং আইনি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া চালানের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কার্যকর হবে এবং আপাতত আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটের সময় কুয়েত দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান উদ্যোগও সেই ধারাবাহিকতার অংশ, যার মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে কোনো সংকটে দেশের খাদ্য সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code