৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

টরন্টোতে রিসেপশন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে সমর্থন কামনা

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ণ
টরন্টোতে রিসেপশন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে সমর্থন কামনা

Manual5 Ad Code

টরন্টোতে রিসেপশন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে সমর্থন কামনা

শেখ স্বপ্না শিমুঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে টরন্টোস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কনস্যুলার কোরের সম্মানে এক অভ্যর্থনার আয়োজন করেছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অ্যাট্রিয়া ওয়ানের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে টরন্টোতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার কোরের সদস্য, আন্তর্জাতিক বিজনেস চেম্বারের প্রতিনিধি, অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ও সিটি কাউন্সিলের সদস্যসহ কানাডার রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্টারিওর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী বিজয় থানিগাসালাম। এছাড়া অন্টারিও প্রাদেশিক সংসদের সদস্য আরিস বাবিকিয়ানও এতে অংশ নেন।

Manual5 Ad Code

বক্তব্যে কনসাল জেনারেল শাহ্ আলম খোকন দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করেন এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের স্বাধীনতা দিবস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বহুত্ববাদী নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশ প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে, যার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের জুনে। এ পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Manual2 Ad Code

কনসাল জেনারেল বলেন, ‘এই প্রার্থিতা বহুত্ববাদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় অর্থবহ অবদান রাখার ইচ্ছার প্রতিফলন।’ তিনি এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান এবং ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন। তিনি বাংলাদেশ-কানাডার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পারস্পরিক মূল্যবোধ—গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনে কানাডার সমর্থনের প্রশংসাও করেন তিনি।

Manual2 Ad Code

হাইকমিশনার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্বের কথা তুলে ধরে কানাডীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেন।

Manual5 Ad Code

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা দেশের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মর্যাদারই প্রতিফলন। ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বৈশ্বিক দক্ষিণের স্বার্থ রক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুত্ববাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথি বিজয় থানিগাসালাম কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। পরিশেষে অতিথিদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code