টরন্টোতে রিসেপশন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে সমর্থন কামনা
শেখ স্বপ্না শিমুঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে টরন্টোস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কনস্যুলার কোরের সম্মানে এক অভ্যর্থনার আয়োজন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অ্যাট্রিয়া ওয়ানের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে টরন্টোতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার কোরের সদস্য, আন্তর্জাতিক বিজনেস চেম্বারের প্রতিনিধি, অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ও সিটি কাউন্সিলের সদস্যসহ কানাডার রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্টারিওর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী বিজয় থানিগাসালাম। এছাড়া অন্টারিও প্রাদেশিক সংসদের সদস্য আরিস বাবিকিয়ানও এতে অংশ নেন।
বক্তব্যে কনসাল জেনারেল শাহ্ আলম খোকন দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করেন এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের স্বাধীনতা দিবস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বহুত্ববাদী নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশ প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে, যার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের জুনে। এ পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কনসাল জেনারেল বলেন, ‘এই প্রার্থিতা বহুত্ববাদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় অর্থবহ অবদান রাখার ইচ্ছার প্রতিফলন।’ তিনি এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান এবং ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন। তিনি বাংলাদেশ-কানাডার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পারস্পরিক মূল্যবোধ—গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনে কানাডার সমর্থনের প্রশংসাও করেন তিনি।
হাইকমিশনার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্বের কথা তুলে ধরে কানাডীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা দেশের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মর্যাদারই প্রতিফলন। ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বৈশ্বিক দক্ষিণের স্বার্থ রক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুত্ববাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথি বিজয় থানিগাসালাম কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। পরিশেষে অতিথিদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
Sharing is caring!