
স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশের জেরে এপস্টেইন ফাইল থেকে কয়েক হাজার নথি সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি সম্প্রতি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ। এসব নথিতে রয়েছে শত শত ইমেইল, কয়েক হাজার ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য। যার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব।
এতে নথিতে থাকা অন্তত ১০০ জন ভুক্তভোগী বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এসব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। ভুক্তভোগীদের দু’জন আইনজীবী নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল বিচারকের কাছে ব্যক্তিগত নথি সরানোর জন্য আবেদন করেন। এরইমধ্যে বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নথি। যাচাই বাছাই শেষে আরও কিছু নথি সরানো হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
ভুক্তভোগীর বরাতে বিবিসি জানায়, আইন বিভাগ তিনটি শর্তই লঙ্ঘন করেছে। যার মধ্যে রয়েছে অনেক নথি এখনও প্রকাশ না করা, প্রকাশের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়া এবং বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
কিছু ক্ষেত্রে নামের ওপর একটি রেখা দেয়া হলেও এটি পড়া যায়। এমন অনেক ভুক্তভোগীর ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যারা কখনো প্রকাশ্যে পরিচয় প্রকাশ করেননি।
এদিকে, এপস্টেইন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেজাজ হারিয়ে ফেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সিএনএনের একজন রিপোর্টারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।ট্রাম্প ওই সাংবাদিককে বলেন তুমি সবচেয়ে বাজে রিপোর্টার। তোমাদের মতো লোকের কারণেই সিএনএনের কোনো রেটিং নেই। আমি তোমাকে দশ বছর ধরে চিনি। তোমার মুখে কোনোদিন হাসি দেখেছি বলে মনে পড়ে না।
এসময় ক্লিনটন দম্পতির কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এটিকে দুঃখজনক বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। বলেন সত্যি বলতে এটা দুঃখজনক। আমি তাকে সবসময়ই পছন্দ করতাম। কিন্তু তারা আমার পেছনে এমনভাবে লেগেছিল, যেন আমাকে সারা জীবনের জন্য জেলে পাঠাতে চায়। শেষে দেখা গেল, আমি নির্দোষ।
অন্যদিকে এপস্টেইন কাণ্ডে বিতর্কের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী রাজনীতিক লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন। জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে গোপন সরকারি তথ্য পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, ২০০৯ সালে ব্যবসা সচিব থাকাকালে এপস্টেইনের কাছে মার্কেট সংবেদনশীল তথ্য পাঠাতেন তিনি। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় বেইলআউটের আগাম তথ্যও পাঠিয়েছেন এপস্টেইনের কাছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত ইমেইলে উঠে আসে এসব তথ্য। এরইমধ্যে ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। তদন্তে পুলিশকে সব ধরনের সহায়তা করার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.swadhinbhasha.com কর্তৃক সংরক্ষিত।