৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সংস্কৃতির শক্তিতে জাগ্রত হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা” বিপ্লবী শিল্পী সমাজের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০১:২২ অপরাহ্ণ
সংস্কৃতির শক্তিতে জাগ্রত হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা” বিপ্লবী শিল্পী সমাজের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

Manual1 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি

বিজয়ের গৌরব ও জাতীয় চেতনাকে সামনে রেখে বিপ্লবী শিল্পী সমাজ-এর উদ্যোগে এক বিপ্লবী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Manual3 Ad Code

বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দশ দিনব্যাপী এই কর্মসূচি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে আয়োজিত হয়। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শক্তিশালী শিল্পীসত্তা ও আবেগঘন পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি দর্শক-শ্রোতাদের গভীরভাবে আন্দোলিত করে।

অনুষ্ঠানটির নেতৃত্ব দেন সংগঠনের আহ্বায়ক শোয়েব হোসেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সদস্য সচিব বিপ্লব চৌধুরী, যার নিরলস পরিশ্রম ও সাংগঠনিক দক্ষতায় পুরো কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

গান, কবিতা আবৃত্তি, নাট্যাভিনয়, নৃত্য ও ছন্দময় পরিবেশনার সমন্বয়ে প্রযোজনা “দুর্গম গিরি কান্তার মরু”-এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয় স্বাধীনতার আনন্দ, আত্মত্যাগের বেদনা, প্রতিরোধের সাহস, আবেগ ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা।

Manual4 Ad Code

আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, বিজয় মাসের এই আয়োজনকে সফল করতে নভেম্বর মাসজুড়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে ব্যাপক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিপ্লবী শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে। এই প্রস্তুতিই বিজয় মাসের পরিবেশনার মজবুত ভিত্তি তৈরি করে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা, পাশাপাশি আবেগঘন ও বিপ্লবী শিল্পচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব ও মর্যাদা তুলে ধরা।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে পরীবাগ সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ছিল উল্লেখযোগ্য ভেন্যু, যেখানে বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত থেকে পরিবেশনা উপভোগ করেন।

Manual2 Ad Code

এছাড়া জানা যায়, আহ্বায়ক শোয়েব হোসেন একজন দক্ষ সংগীত শিক্ষক ও কণ্ঠশিল্পী। পূর্ববর্তী বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও তিনি নবীন শিল্পীদের বিপ্লবী সংগীতে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ভবিষ্যতেও বিপ্লবী শিল্পী সমাজ-এর মাধ্যমে আরও নতুন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কাজ জাতির সামনে উপস্থাপনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে শোয়েব হোসেন বলেন—

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি। শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে আমরা চাই বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম ইতিহাসকে শুধু জানুক না, হৃদয়ে অনুভব করুক।

Manual6 Ad Code

সৃজনশীল প্রকাশের মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনাকে জীবন্ত রাখাই আমাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।”

সদস্য সচিব বিপ্লব চৌধুরী বলেন শিল্পীদের ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমরা বিজয় মাসের চেতনাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছিএটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

বিপ্লবী শিল্পী সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খুব শিগগিরই দেশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামীণ অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বুদ্ধিজীবী ও দর্শকরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন বর্তমান প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা এবং জাতির ঐতিহাসিক মুক্তিসংগ্রাম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জরুরি।

এ বছরের অনুষ্ঠানের স্লোগান ছিল “সংস্কৃতির শক্তিতে জাগ্রত হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা”

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code