বিশেষ প্রতিনিধি
ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি নামেনি। সীমান্তের সাঁওতালপাড়া গ্রাম ঘুমে আচ্ছন্ন। নিস্তব্ধতার ভেতর হিলি সীমান্তের বাতাসে হঠাৎই ভেসে আসে দ্রুত দৌড়ানোর শব্দ—মাটি ছুঁয়ে ছুঁয়ে ছুটে যাচ্ছে তিন ছায়ামূর্তি। সীমান্তের শূন্য লাইনের ২০০ গজ ভেতরে, বাংলাদেশের মাটিতে তাদের হাতে ঝুলছে একটি পলিথিন ব্যাগ। ব্যাগটি বেমানান। তাড়াহুড়ো স্পষ্ট। ঠিক তখনই ছায়ার মতো এগিয়ে আসে বিজিবির টহলদল। জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ান–২০-এর হিলি মংলা বিশেষ ক্যাম্প।
সময়—সকাল ৪টা ৩০ মিনিট। ভোরের কুয়াশায় বাতাস থমকে আছে। টহলদলের বুটের শব্দ যেন সিনেমার নীরব দৃশ্যে যোগ করে এক অদৃশ্য উত্তেজনা। সন্দেহজনক তিন ব্যক্তি টহলদলের আগমনী ইঙ্গিত টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তেই ঘন কুয়াশার আড়ালে মিলিয়ে যায়। ফেলে যায় কেবল একটি পলিথিন ব্যাগ—যেন অপরাধের প্রমাণ নিজের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে।
বিজিবির সদস্যরা ব্যাগটি খুলতেই আচমকাই বাস্তবতা বেরিয়ে আসে—১,৯৭৫ পিস কুপিজেসিক ইনজেকশন নিষিদ্ধ ও ভারতীয় উৎপাদন। মোট আনুমানিক বাজারমূল্য—২,৯৫,৫০০ টাকা। অভিযানের সারমর্ম পরে নিশ্চিত করে আজ বিকেল ৫ টায় পাঠানো প্রেস রিলিজ।
সেখানে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন–২০ জানায়—”গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টহলদল অভিযান চালায়। বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
প্রেস রিলিজের বাক্যগুলো সরকারি ভাষায় সংযত। কিন্তু সীমান্তের ভোর তখনও যেন দেখিয়ে দেয় অন্য বাস্তবতা। একদল লোক কুপিজেসিকের মতো বিপজ্জনক ইনজেকশন চোরাচালান করে; আর অন্যদিকে রাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সেই অন্ধকার পথগুলো রুদ্ধ করতে ব্যস্ত।
ভোরের আকাশে আলো ফুটতে না ফুটতেই এই দুই শক্তির মুখোমুখি দাঁড়ানো যেন নীরব যুদ্ধেরই ছবি। হিলি সীমান্তের এই অভিযান শুধু একটি উদ্ধার নয়— এ হলো প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়ানো একটি সমাজের গল্প। কেন এখনো সীমান্ত দিয়ে এই নিষিদ্ধ ইনজেকশন আসে? কারা চালায় এই নেটওয়ার্ক? এদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের চোখ কতটা খোলা?
বিজিবি তাদের দায়িত্ব পালন করে গেছে—কিন্তু সীমান্তের ধূসর ভোরের মতোই প্রশ্নগুলো এখনো ঝুলে থাকে বাতাসে। অভিযান শেষে সীমান্ত আবার শান্ত হয়ে যায়। কেবল বাতাসে রয়ে যায় টহলদলের পদচিহ্ন— এবং একটি অদৃশ্য বার্তা: এ লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
Sharing is caring!