২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: ওমরাহ পালনে গিয়ে সৌদিতে আটকা ৪০ হাজার বাংলাদেশি।

editor
প্রকাশিত মার্চ ২৩, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: ওমরাহ পালনে গিয়ে সৌদিতে আটকা ৪০ হাজার বাংলাদেশি।

Manual5 Ad Code

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: ওমরাহ পালনে গিয়ে সৌদিতে আটকা ৪০ হাজার বাংলাদেশি।

শেখ স্বপ্না শিমুঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন।

দেশে ফেরার সরাসরি ফ্লাইটের এক টিকিটের ভাড়া গুনতে হচ্ছে প্রায় লাখ টাকা। অতিরিক্ত খরচ ও নানা জটিলতার মধ্যে থাকা ওমরাহ পালনকারীরা সরকারের কাছে দ্রুত সহায়তা চেয়েছেন।

Manual2 Ad Code

চিরন্তন বিশ্বাসের এক অনন্য স্থান পবিত্র মক্কা। সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি, ব্যক্তি জীবনে পরিশুদ্ধতা ও ইবাদতের লক্ষ্যে প্রতিবছর আল্লাহর ঘর তাওয়াফ, বিশ্বনবীর রওজা মোবারক জিয়ারত এবং ঐতিহাসিক স্থান দর্শনে হজ কিংবা ওমরাহ করতে সৌদি আরব যান লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ।

হজ মৌসুমের আগে-পরে প্রতি বছর সৌদি আরব যাতায়াত স্বাভাবিক থাকলেও এবার হিসেব পাল্টে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যে সব ওমরাহ পালনকারীদের দেশে ফেরার কথা ছিল, শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এখন তারা আটকা পড়েছেন। শিডিউল না পেয়ে যারা প্যাকেজের বাইরে ফিরতে আগ্রহী, তাদের সৌদি-ঢাকা রুটের রাসরি একমুখী টিকিটে গুণতে হচ্ছে প্রায় লাখ টাকা। অতিরিক্ত অর্থ সঙ্গে না থাকায় বিপাকে অনেকেই।

আটকে পড়া যাত্রীরা জানান, থাকার ব্যবস্থা নেই, খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, টাকা নেই। সময় কাটানো দুঃসহ হয়ে গেছে; বিশেষ করে ছোটরা খুবই অতিষ্ঠ। নতুন টিকিট করেও ফেরার চেষ্টা করতে কষ্ট হচ্ছে। সরাসরি ফ্লাইট চালু থাকা বিমানগুলোতে ভাড়া প্রায় এক লাখ টাকা। হজ এজেন্সির পক্ষ থেকে সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে, যারা সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন তাদের দ্রুত দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করার জন্য।

Manual2 Ad Code

এজেন্সিগুলোর তথ্য বলছে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে শুধু ওমরাহ করেন সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ মুসল্লি। যুদ্ধকালীন আটকা পড়ছেন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার বাংলাদেশি ওমরাহ পালনকারী। তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।

হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, হাজার হাজার ওমরাহ যাত্রী এখন সৌদি আরবে আটকা আছে। তাদের হোটেলের প্যাকেজ শেষ হয়ে গেছে। হোটেল এবং খাবারের সংকট মারাত্মক হয়ে গেছে। তাদের দ্রুত ফেরত আনার জন্য আমরা বিমান মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। যারা এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করছেন, তাদেরকে সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে চলমান সংকট কাটাতে ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনা সহজ নয় বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, যাদের সরাসরি ক্যারিয়ার আছে, তাদের ভাড়া বেড়ে গেছে এবং সিটও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সাধারণভাবে অন্য রুটে যাত্রা বদলানোও সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইচ্ছা থাকলে দুটি এয়ারক্রাফট ডেডিকেটেড করে ইভাকুয়েশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

Manual1 Ad Code

ওমরাহ যাত্রীদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ট্রানজিট ফ্লাইট না থাকায় অনেকেই বাড়তি খরচে দেশে ফিরতে পারছেন না। ঈদের পর এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।

Manual7 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code