১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নারী এশিয়ান কাপ হেরে গিয়েও মানুষের মন জিতে নিলো ইরান।

editor
প্রকাশিত মার্চ ৩, ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ণ
নারী এশিয়ান কাপ হেরে গিয়েও মানুষের মন জিতে নিলো ইরান।

Manual8 Ad Code

নারী এশিয়ান কাপ হেরে গিয়েও মানুষের মন জিতে নিলো ইরান।

শেখ স্বপ্না শিমুঃ হেরেও কী আবার কোনো কিছু জেতা যায় নাকি? হ্যাঁ, কিছু কিছু সময় মাঠের খেলায় হেরে গেলেও মানুষের মন তো জেতা সম্ভব। এই যেমন, ইরানের কথায় বলি; দেশের বাতাসে বারুদের গন্ধ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরানে একের পর এক বাড়ছে ধ্বংসস্তূপ। দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি নিহত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়নি। সেই ধ্বংসস্তুপের মাঝে স্বজনদের রেখে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে এশিয়ান কাপে আজ নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেললেন ইরানের মেয়েরা। মাঠের খেলায় যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে তারা, তবে তারা জয় করে নিয়েছে মানুষের মন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে ইরান।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ইরান আছে ৬৮তম স্থানে, আর দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান ২১তম। দুই দলের মাঝে ফারাক অনেক, মাঠের লড়াইয়ে কী হতে পারে তাও নিশ্চই আন্দাজ করা কঠিন ছিল না। মাঠের খেলায় হলোও তাই, তবে ম্যাচ হারলেও ইরানের মেয়েরা তো আসলে মাঠে নেমেই জিতে গেছে।

Manual5 Ad Code

ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে চো ইউ-রির গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। বিরতির পর ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কিম হেই-রি দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। আর ৭৫ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ইউ জিন-কো।

Manual5 Ad Code

তবে মাঠের স্কোরলাইন যাই হোক, নিজ দেশের ধ্বংসযজ্ঞ, স্বজনদের জীবন নিয়ে শঙ্কা, এসব বিষয় মাথায় রেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করাটা স্কোরলাইনের চেয়ে নেহাতি কম নয়। এসব বিষয় বুকে পাথরচাপা দিয়ে মাঠে নামার জন্যই জিতে গেছেন ইরানের মেয়েরা। গ্যালারি থেকেও অবশ্য পেয়েছেন দর্শকদের করতালি।

Manual4 Ad Code

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলছে ইরান। ২০২২ সালে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে। এবার ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়া ইরানের বাকি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন।

Manual1 Ad Code

৫ মার্চ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ইরান। ১২টি দল খেলছে তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি জায়গা করে নেবে নকআউট পর্বে। এই তিনটি গ্রুপ থেকে আবার শীর্ষ দুই তৃতীয় দল জায়গা পাবে নকআউট পর্বে।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code