২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত।

Manual6 Ad Code

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত।

শেখ স্বপ্না শিমুঃ যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দুই পর্বে বিভক্ত দিবসের কর্মসূচিতে ছিল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

Manual5 Ad Code

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Manual6 Ad Code

এরপর একে একে হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং শিক্ষার্থীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করে শোনান দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ।

এ সময় ইউনেস্কো সাধারণ কনফারেন্সের প্রেসিডেন্টের একটি ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয়, যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুভাষিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এছাড়া ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ইউথ ভয়েস অন মাল্টিনিগুয়াল এডুকেশন’ এর ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত আলোচনা সভায় মূল বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব মালয়া প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তারিকুর রহমান, সিনিয়র লেকচারার মোহাম্মদ আলী তারেক, মালয়েশিয়ার প্রথম বাংলা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মিস তিয়াশা কাবেজ, এনবিএল মানি ট্রান্সফার এর সিইও আলী হায়দার মর্তুজা।

Manual4 Ad Code

বক্তারা বিশ্বায়নের যুগে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষায় বহুভাষিক দক্ষতার অপরিহার্যতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রবাসে মাতৃভাষার শিকড় শক্ত রেখে অন্য ভাষা শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মাহসা ইউনিভার্সিটির কৌশিক সরকার এবং ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ার রাশনি উম্মায়া সারা আলোচনায় অংশ নেন।

হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ‘ভাষার অধিকারের জন্য জীবন বিসর্জন শুধু বাঙালির গর্ব নয়, বরং সমগ্র বিশ্বে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় অনুপ্রেরণার উৎস।’ তিনি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা জোরদার করার আহ্বান জানান।

Manual7 Ad Code

অনুষ্ঠানের শেষাংশে বাংলাদেশি শিল্পীরা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গান ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code