২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ভেনেজুয়েলায় ক্ষমা আইন পাস, মুক্তি পেতে পারেন কয়েকশ ‘রাজনৈতিক বন্দি’।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ক্ষমা আইন পাস, মুক্তি পেতে পারেন কয়েকশ ‘রাজনৈতিক বন্দি’।

Manual8 Ad Code

ভেনেজুয়েলায় ক্ষমা আইন পাস, মুক্তি পেতে পারেন কয়েকশ ‘রাজনৈতিক বন্দি’।

স্বপ্না শিমুঃ রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই ভেনেজুয়েলায় পাস হলো ক্ষমা আইন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এই আইনে কয়েকশ ‘রাজনৈতিক বন্দি’ মুক্তি পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের শুরু বলে মনে করছে সরকার। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই আইন রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে না।
ভেনেজুয়েলায় এখনও ৬০০–এরও বেশি ব্যক্তি রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন।

Manual5 Ad Code

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দফা বিতর্ক শেষে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন দল-নিয়ন্ত্রিত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ক্ষমা বিল অনুমোদন করে। পরে অর্ন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, এই আইন ‘গণতান্ত্রিক সহাবস্থান ও জাতীয় ঐক্যের’ পথ খুলে দেবে।

তিনি বলেন, ক্ষমা আইন ভেনেজুয়েলার জন্য একটি অসাধারণ দ্বার উন্মুক্ত করেছে। যাতে দেশটি পুনরায় একত্রিত হতে পারে এবং গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের শিক্ষা নিতে পারে। ভেনেজুয়েলাকে ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতা থেকে মুক্ত করার জন্য, মানবাধিকারকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য এই আইন একটি নতুন সূচনা।

এই আইন ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা বিক্ষোভের সময় করা ‘রাজনৈতিক কারণে হওয়া সহিংসতা’র জন্য দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সাধারণ ক্ষমা প্রদান করবে। এতে বিরোধী দল, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিকসহ বহু ব্যক্তি উপকৃত হবে এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

ভেনেজুয়েলায় বন্দিদের জন্য কাজ করা সংগঠন ফোরো পেনাল–এর হিসাব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের পর চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৪৮ জন রাজনৈতিক কারণে আটক থাকা ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও ৬০০–এরও বেশি ব্যক্তি রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন।

Manual2 Ad Code

আইন অনুযায়ী, ২০০২ সালের অভ্যুত্থান এবং ২০০৪ থেকে ২০২৫ সালের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের জন্য সাধারণ ক্ষমার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ২০১৯ সালের ঘটনায় ‘সামরিক বিদ্রোহে’ দণ্ডিতরা এর বাইরে থাকবেন। আইনটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের তালিকা দেয়নি, যদিও আগের খসড়ায় রাষ্ট্রদ্রোহ, বিদ্রোহ ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মতো অভিযোগের উল্লেখ ছিল।

Manual1 Ad Code

এই আইনের আওতায় আটক ব্যক্তিদের সম্পদ ফেরত দেয়া হবে না, রাজনৈতিক কারণে দেয়া সরকারি পদে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না পাশাপাশি গণমাধ্যমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও বাতিল করা হবে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, শত শত রাজনৈতিক বন্দীর জন্য এই আইন স্বস্তি বয়ে আনবে না। অন্যদিকে সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে দেশে রাজনৈতিক বন্দি নেই, বরং অপরাধে জড়িতদেরই কারাবন্দি করা হয়েছে।

গত মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা নেয়া ডেলসি রদ্রিগেজ এরই মধ্যে তেল বিক্রি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে কিছু সমঝোতায় পৌঁছেছেন। নতুন আইন অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানকারীরা আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন, তবে ক্ষমা পেতে হলে দেশে উপস্থিত থাকতে হবে। ট্রাইব্যুনালে ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন তদারকিতে একটি বিশেষ কমিশনও গঠন করা হয়েছে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code