২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বিশ্বকাপ দেখতে সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে যেতে নিষেধ করলেন ফিফার সাবেক সভাপতি

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপ দেখতে সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে যেতে নিষেধ করলেন ফিফার সাবেক সভাপতি

Manual7 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী আগ্রাসী নীতির প্রতিবাদে সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের আগে সমর্থকদের প্রতি নমনীয় হওয়া তো দূরে থাক, একের পর এক কঠোর আইন জারি করছেন ট্রাম্প। তার এমন সিদ্ধান্তে সবসময় সায় দেয়ায় বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোরও কড়া সমালোচনা করেছেন ৮৯ বছর বয়সি সাবেক প্রেসিডেন্ট।
ফিফা সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব বিশ্বকাপ সামনে রেখে চলছে প্রস্তুতি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হবে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। দম ফেলার ফুরসত নেই তিন আয়োজক দেশের।

Manual8 Ad Code

তবে, মাঠের প্রস্তুতির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তেও আলোচনায় ২০২৬ বিশ্বকাপ। ডেনমার্কের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিশ্বকাপ বয়কটের পরিককল্পনা করছে জার্মানি সহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ।

এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর নীতিমালা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের সমর্থকরা। বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে মিনেপোলিসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহতের ঘটনাও হয়েছে।

ফিফা সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সমর্থকদের বিশ্বকাপ ফটুবল উপভোগ না করার আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুপ আচরণের কারণে ব্লাটার বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন সমথকদের।

Manual7 Ad Code

কিছুদিন আগেই সুইজারল্যান্ডের দুনীতিবিরোধী আইনজীবী ও সুইস অ্যাটর্নি মাক পিয়েথ গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল না দেখার অনুরোধ করেছিলেন। এবার তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে নিরুৎসাহিত করেছে ব্লাটার।

ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার বলেন, ‘সমর্থকদের জন্য শুধু একটাই পরামর্শ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। আমার মনে হয় মার্ক পিয়েথের বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যৌক্তিক।

Manual3 Ad Code

দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৫ সালে ফিফা সভাপতির পদ ছাড়েন সেপ ব্ল্যাটার। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নেন বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ব্ল্যাটার এবং উয়েফার সাবেক সভাপতি মিশেল প্লাতিনি গত বছর এসব অভিযোগ থেকে মুক্তি পান।

Manual2 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code