২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

‘অন্যায় স্থায়ী হয় না’: ইরান ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ণ
‘অন্যায় স্থায়ী হয় না’: ইরান ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক

Manual5 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

কোনো ‘অন্যায়’ স্থায়ী হবে না এবং বিক্ষোভকারীদের রক্ত বৃথা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মেহেদী মাহদাভিকিয়া।
ইরানের একটি ফরেনসিক সেন্টারে রাখা মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন একজন নারী।

কাহরিজাক ফরেনসিক সেন্টারে মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন নারীর একটি ছবি পোস্ট করে মাহদাভিকিয়া বলেছেন, ‘ছবিটি নিজেই কথা বলছে। যদি কারও হৃদয়ে ব্যথা না থাকে, তাহলে তাদের কোনো সম্মান এবং মানবতা নেই।’

Manual3 Ad Code

তিনি জনসাধারণকে ইরানের বিক্ষোভে নিখোঁজদের খুঁজতে থাকা স্বজনদের বেদনা উপলব্ধি করার কথাও বলেন। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের। শোকাহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মাহদাভিকিয়া লেখেন, নিজেকে সেই বাবা-মায়ের জায়গায় ভাবুন যারা তাদের প্রিয় সন্তানদের খুঁজছেন। যারা এটি ঘটিয়েছে তাদের অভিশাপ দিন।

Manual7 Ad Code

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় বা পরবর্তী সহিংসতায় মোট ৩০৫টি অ্যাম্বুলেন্স ও বাস, ২৪টি গ্যাস স্টেশন এবং প্রায় ৭০০টি কনভেনিয়েন্স স্টোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩০০টি ব্যক্তিগত বাড়ি, ৭৫০টি ব্যাংক এবং ৪১৪টি সরকারি ভবন আক্রমণের শিকার হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। এতে ৭৪৯টি পুলিশ স্টেশন, ১২০টি আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ কেন্দ্র এবং ৬০০টি এটিএম ভাঙচুর বা ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি পরিবহন খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫৩টি বাস টার্মিনাল ও প্রায় ৮০০টি ব্যক্তিগত গাড়ি। ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই সহিংসতা থেকে রেহাই পায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ৩৫০টি মসজিদ, ২টি আর্মেনিয়ান গির্জা, ২০০টি স্কুল এবং ১৫টি লাইব্রেরি।

Manual3 Ad Code

হামলায় প্রাণহানির সংখ্যাও ভয়াবহ। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৬৯০ জন হামলাকারী বা ‘সন্ত্রাসী’।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় মোট ৪ হাজার ৫১৯ জন নিহত হয়েছেন।

Manual7 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code