২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ভূমধ্যসাগরে ‘রুশ জাহাজ’ জব্দ করল ফ্রান্স!

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ণ
ভূমধ্যসাগরে ‘রুশ জাহাজ’ জব্দ করল ফ্রান্স!

Manual4 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

করেছে ফরাসি নৌবাহিনী। অভিযোগ করে বলা হচ্ছে, জাহাজটি রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, তেলবাহী জাহাজটি ‘রাশিয়া থেকে আসছিল, এটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এবং ভুয়া পতাকা ব্যবহার করছিল বলে সন্দেহ রয়েছে’।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘এই অভিযানটি একাধিক মিত্র দেশের সহায়তায় এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের পূর্ণ সম্মতির মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে। জাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Manual7 Ad Code

স্থানীয় মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্পেন ও মরক্কোর মধ্যবর্তী এলাকা থেকে ‘গ্রিঞ্চ’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ নৌবাহিনী জব্দ করেছে। পরে যুক্তরাজ্য নিশ্চিত করে যে তারা এই জাহাজ জব্দের অভিযানে সহায়তা করেছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, যুক্তরাজ্য জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সহায়তা দিয়েছে। এমন সময়ে এই জাহাজ জব্দের ঘটনা ঘটল, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের জবাবে মস্কোর বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

Manual4 Ad Code

তবে প্রতিবেদন অনুসারে, এসব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোর কাছে মস্কো এখনও লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি করে যাচ্ছে। এই তেলের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয় পশ্চিমা সামুদ্রিক শিল্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিচালিত একটি ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর মাধ্যমে।

Manual6 Ad Code

সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার-এর নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে শতাধিক রুশ জাহাজ ভুয়া পতাকা ব্যবহার করেছে এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টন তেল পরিবহন করেছে, যার মূল্য ৪৭০ কোটি ইউরো (৫৫ বিলিয়ন ডলার)।

Manual6 Ad Code

এদিকে জাহাজটি জব্দের জন্য ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ফ্রান্সে অবস্থিত রুশ দূতাবাস বলেছে যে জাহাজটি আটকানোর বিষয়ে তাদের আগে থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code