২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জীবন দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে: আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জীবন দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে: আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া

Manual3 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

মিয়ানমার মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল এবং তাদের জীবনকে ‘দুঃস্বপ্নে’ পরিণত করেছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার ঐতিহাসিক মামলার শুনানিতে বিচারকদের সামনে এই অভিযোগ তুলে ধরেছে গাম্বিয়া। খবর রয়টার্সের।

Manual3 Ad Code

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগের শুনানি শুরু হয়।

গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই আইসিজে-তে পুরোপুরি শুনানি হওয়া প্রথম গণহত্যার মামলা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার রায় কেবল মিয়ানমারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যার মামলাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Manual4 Ad Code

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাওদা জ্যালো আদালতের বিচারকদের বলেন, ‘রোহিঙ্গারা ছিল সাধারণ মানুষ, যারা শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিল। তাদের ধ্বংস করার জন্য লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল।

মিয়ানমার তাদের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে, বরং তাদের জীবনকে এমন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে, যেখানে অকল্পনীয় সহিংসতা ও ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে।’

পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়া অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সমর্থনে ২০১৯ সালে ‘বিশ্ব আদালত’ খ্যাত আইসিজে-তে এই মামলাটি দায়ের করে। এতে অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে এক ভয়াবহ অভিযান শুরু করে। এর মুখে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

সে সময় তারা হত্যা, গণধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেছিল। জাতিসংঘের একটি সত্যানুসন্ধান মিশন ওই সামরিক অভিযানকে “গণহত্যামূলক কাজ” হিসেবে অভিহিত করেছিল।

তবে মিয়ানমার বরাবরই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, ২০১৭ সালের ওই অভিযান ছিল মুসলিম জঙ্গিদের হামলার জবাবে একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান।

২০১৯ সালের প্রাথমিক শুনানিতে মিয়ানমারের তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার অভিযোগকে “অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর” বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে শুনানির আগে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীরা জানান, তারা এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মামলা থেকে ন্যায়বিচার আশা করছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার ৫২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী ইউসুফ আলী রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা একটি ইতিবাচক ফলের আশা করছি, যা বিশ্বকে জানাবে যে মিয়ানমার গণহত্যা চালিয়েছে। আমরা এর শিকার এবং আমরা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য।

Manual3 Ad Code

গাম্বিয়া আরও তিন দিন আদালতে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে। এরপর শুক্রবার মিয়ানমার এসব অভিযোগের জবাব দেয়ার সুযোগ পাবে।

এরপর আদালত রুদ্ধদ্বার কক্ষে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন। কোনো আন্তর্জাতিক আদালতে সরাসরি রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য দেয়ার ঘটনা এটাই প্রথম হতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে আইসিজে-তে এই শুনানি তিন সপ্তাহ ধরে চলবে।

Manual4 Ad Code

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে মিয়ানমারে অস্থিরতা চলছে। বর্তমানে দেশটিতে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা জাতিসংঘ ও পশ্চিমা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো অবাধ বা সুষ্ঠু নয় বলে সমালোচনা করেছে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code