২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

আলেপ্পোতে সিরীয় বাহিনী-এসডিএফের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ছয়

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ণ
আলেপ্পোতে সিরীয় বাহিনী-এসডিএফের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ছয়

Manual5 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও আলেপ্পোতে সিরীয় বাহিনী ও এসডিএফের পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন। এতে গত কয়েকদিনের এই সংঘাতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। আহত ছাড়িয়েছে দুই শতাধিক।

এর মধ্যেই শেখ মাকসুদ এলাকায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে সিরীয় বাহিনী। আত্মসমর্পণের পর এসডিএফ যোদ্ধাদের বাসে করে অন্য জায়গায় পাঠানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এসডিএফ।

Manual1 Ad Code

উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও এসডিএফ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও এসডিএফ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। যার সূত্রপাত এসডিএফ-এর রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর।

তিনদিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর সংঘাত বন্ধে সম্মত হয় সিরীয় সরকার।

Manual5 Ad Code

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এসডিএফের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা দেয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা প্রশাসন। সেই সঙ্গে ওইদিন সন্ধ্যার মধ্যে এলাকা ছাড়ার আল্টিমেটাম দেয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতি মেনে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানায় এসডিএফ। এরপরই ফের হামলা জোরদার করে সরকারি বাহিনী।

সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এসডিএফের হামলায় শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যদিও বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স-এসডিএফ।

স্থানীয় সময় শনিবার (১০ জানুয়ারি) আলেপ্পোয় ড্রোন হামলা চালায় সংগঠনটি। একটি ড্রোন আলেপ্পোর গভর্নরেট ভবনে আঘাত হানে। সিরীয় সেনাবাহিনী বলছে, এসডিএফ ইরানে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব হামলাকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

Manual6 Ad Code

এদিকে শেখ মাকসুদ এলাকায় সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয় সিরীয় বাহিনী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল তিনটা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। সরকারি বাহিনী জানায়, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

সরকারি সূত্র বলছে, শেখ মাকসুদে বহু এসডিএফ যোদ্ধা আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের বাসে করে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাবকাহ শহরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু বেসামরিক পরিবারকেও এলাকা ছাড়তে দেয়া হয়েছে।

তবে এসডিএফ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, বাসে করে যাদের নেয়া হয়েছে তারা যোদ্ধা নন। তারা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষ। এখনো কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই চলছে বলে জানাচ্ছে সরকার।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সহিংসতা সমন্বয় চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর সংলাপ সহজ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

এর আগে মার্চে এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির চুক্তি হয়েছিল। সরকার বলছে, সেই চুক্তির শর্ত এখনো মানা হয়নি।

আলেপ্পোর গভর্নরের দাবি, এসডিএফ চুক্তি অনুযায়ী এলাকা ছাড়েনি। বরং ওই এলাকাকে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সরকার নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

Manual6 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code